...|...|...

বিশ্ব

মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৫ | আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৬
Shares
মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। মাসিক ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার রিঙ্গিত করার এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উপকৃত হতে পারেন দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের লাখো প্রবাসী শ্রমিক।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মালয়েশিয়ার ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণা দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুন থেকে নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের মাসিক মূল বেতন ৩০০ রিঙ্গিত বাড়বে। অর্থাৎ বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত ন্যূনতম মজুরি পাওয়া একজন কর্মীর বেতন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২ হাজার রিঙ্গিতে। তবে নতুন কাঠামো কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধান ও বাস্তবায়ন নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

বাজেট বক্তৃতায় আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের আয় বাড়ানো প্রয়োজন। শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ও মজুরির মধ্যে ব্যবধান কমানোর লক্ষ্যেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন মজুরি কাঠামো বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে বার্ষিক বিক্রয় ৫ কোটি রিঙ্গিতের কম এমন ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আপাতত এ বাধ্যবাধকতার বাইরে রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া আধা-দক্ষ কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক হওয়া ব্যক্তিদের প্রারম্ভিক ন্যূনতম বেতন ২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে জীবনধারণের উপযোগী মজুরি ৩ হাজার ৪০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন শিল্পকারখানা, নির্মাণ খাত, পরিষেবা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকর হলে এর আওতাভুক্ত বাংলাদেশি কর্মীদের মাসিক আয় বাড়তে পারে।
তবে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা মানেই সব শ্রমিকের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই হারে বাড়বে—এমন নয়। নতুন মজুরি কাঠামোর আওতা, প্রতিষ্ঠানের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।

অন্যদিকে, মূল বেতন বাড়লেও ওভারটাইমের সুযোগ কমে গেলে কোনো কোনো শ্রমিকের মোট মাসিক আয় প্রত্যাশা অনুযায়ী নাও বাড়তে পারে। তাই প্রবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু মূল বেতন নয়, ওভারটাইম, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য সুবিধা মিলিয়ে মোট আয়ের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর সক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে নতুন মজুরি কাঠামোর বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের প্রাপ্য বেতন যথাযথভাবে পরিশোধের ওপর।