ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ তেহরানের বিরুদ্ধে ৪৫০টিরও বেশি টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রণতরীটি মার্কিন মুল্লুকে ফেরার ঠিক একদিন আগে মাঝসাগরে জাহাজে গিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ।
সান ডিয়েগোতে মূল ঘাঁটিতে ফিরে আসার প্রাক্কালে ৩২১ দিনের দীর্ঘ মোতায়েন সম্পন্ন করে এই রণতরীটি, যার মধ্যে বন্দর বিরতি ছাড়াই একটানা ২৬৪ দিন সমুদ্রে কাটানোর রেকর্ড রয়েছে। এটি ২০২০ সালে ‘ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার’-এর গড়া একটানা ২০৬ দিন সমুদ্রে থাকার আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ছয় মাসের মিশনে স্ট্রাইক গ্রুপের সাফল্য
গত ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইরানের উপকূলে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র অংশ হিসেবে লিংকনের ক্রু ও ক্যারিয়ার এয়ার উইং ৯-এর অর্জনগুলোর কথা তুলে ধরে যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ জানান, এই ছয় মাসে স্ট্রাইক গ্রুপটি যেসব সফলতা অর্জন করেছে তা ইতিহাসে নজিরবিহীন:
· ৩,৬৯৩টি কম্বট সর্টি বা যুদ্ধ মিশন পরিচালনা।
· ১৩ লক্ষ ৭০ হাজার পাউন্ড ওজনের অস্ত্রশস্ত্র বা অর্ডন্যান্স নিক্ষেপ।
· ৪৫০টি টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ।
· ৭৭টি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করা।
· ৬৪টি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া।
· ২১টি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা।
· এছাড়া ৪টি ফাস্ট-অ্যাটাক ক্রাফট এবং বিস্ফোরকবাহী কাঠের নৌকার হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে টানা ৪০ দিন একটানা তীব্র লড়াই চলে এবং পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘ মাসব্যাপী নৌ-অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেয় এই স্ট্রাইক গ্রুপ।
পেন্টাগন প্রধানের প্রশংসা ও প্রেসিডেন্সিয়াল সাইটেশন
জাহাজের ক্রুদের উদ্দেশে হেগসেথ বলেন, আমরা আজ সকালে উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এখানে এসেছি আপনাদের সম্মান জানাতে, শ্রদ্ধা জানাতে এবং আপনাদের অর্জনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে। তিনি আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সেনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে তা নিশ্চিত করা এবং প্রথম দিন থেকেই অত্যন্ত কঠোরভাবে এই অবরোধ বজায় রাখার জন্য তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফলভাবে পরিচালনার স্বীকৃতিস্বরূপ যুদ্ধমন্ত্রী ক্রুদের হাতে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিট তুলে দেন। সশস্ত্র শত্রুর বিরুদ্ধে অসাধারণ বীরত্বের জন্য সামরিক ইউনিটগুলোকে প্রদত্ত এটিই সর্বোচ্চ সামরিক পদক।


