...|...|...

ক্যাম্পাস

পাখি দেখার আগ্রহ থেকে অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ পেলেন ফারিহা

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:১০
Shares
পাখি দেখার আগ্রহ থেকে অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ পেলেন ফারিহা

রাবি শিক্ষার্থী ফারিহা ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

পাখি দেখার আগ্রহ থেকেই শুরু হয়েছিল পথচলা। ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ তাকে যুক্ত করেছে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সংরক্ষণ, গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাজের সাথে। প্রায় এক দশকের সেই পথচলার পর এবার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ৬৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ফারিহা ইকবাল। এ জন্য তিনি একটি বৃত্তিও পেয়েছেন, যা বর্তমানে তার পড়াশোনার ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক অর্থায়ন করবে।

ফারিহা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক স্কুলে মাস্টার্স করবেন। তার পাওয়া বৃত্তিটির নাম ‘ডব্লিউসিএন রাইজিং ওয়াইল্ডলাইফ লিডার্স স্কলারশিপ’। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন নেটওয়ার্কের এ বৃত্তির আওতায় সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী বিষয়ে কাজ করা উদীয়মান নেতাদের মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

তবে বৃত্তিটি পূর্ণ অর্থায়নের নয় বলে জানিয়েছেন ফারিহা। বর্তমানে এটি তার পড়াশোনার ব্যয়ের অর্ধেক অর্থায়ন করবে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি আংশিক বৃত্তির জন্য আবেদন করেছেন তিনি। সেগুলোর ফলাফল এখনো পাননি।

ফারিহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে গেছেন তিনি। তার আইইএলটিএস স্কোর ৮ দশমিক ০।

অক্সফোর্ডে আবেদনের বিষয়ে ফারিহা জানান, অনার্সের ফল প্রকাশের পরপরই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আবেদন করেন এবং ভর্তির প্রস্তাব পান। তবে অক্সফোর্ডে যাওয়ার জন্য আলাদাভাবে নিজের জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করেননি তিনি। পাখি দেখার আগ্রহ থেকেই ধীরে ধীরে পরিবেশ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।

ফারিহা বলেন, গত প্রায় ১০ বছরে গবেষণা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের সংরক্ষণকাজ, আমি যা কিছু করেছি, তার প্রায় সবকিছুর পেছনেই এই আগ্রহ ও উদ্দেশ্যটা ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমি সত্যিই এগুলো করতে ভালোবাসতাম। তাই আমার কাছে অক্সফোর্ড কোনো গন্তব্য ছিল না; বরং আমার দীর্ঘ যাত্রার একটা অংশ।

অক্সফোর্ডকে বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম বা র‍্যাঙ্কিং তার মূল বিবেচনা ছিল না বলে জানান ফারিহা। ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ্যক্রম, গবেষণার সুযোগ ও শিক্ষাদান কাঠামো একসাথে পাওয়ার বিষয়টিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ফারিহা বলেন, তুমি কী শিখতে চাও, কোন সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করতে চাও, তোমার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কী এবং অক্সফোর্ডের নির্দিষ্ট কোর্স বা একাডেমিক পরিবেশ কীভাবে সেই লক্ষ্যে তোমাকে সাহায্য করবে, এসব নিয়ে আগে পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অক্সফোর্ডে আবেদনের প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা ও সমালোচনামূলক চিন্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ফারিহা। তার মতে, শুধু ভালো ইংরেজি লিখতে পারা নয়, কোনো বিষয়কে কতটা গভীরভাবে বোঝা এবং নিজের চিন্তা কতটা পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শুধু জীবনবৃত্তান্তে অনেকগুলো সহশিক্ষা কার্যক্রম যোগ করার জন্য কার্যক্রম করা খুব একটা অর্থবহ নয়। বরং তুমি যে বিষয়ে সত্যিই আগ্রহী, সেই বিষয়ে গভীরভাবে শেখা, কাজ করা এবং নিজের মতো করে কিছু করার চেষ্টা করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অক্সফোর্ডে আবেদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোর্সের কাঠামো, যোগ্যতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়টি কী ধরনের একাডেমিক আগ্রহ বা অভিজ্ঞতা খুঁজছে, তা আগে ভালোভাবে বোঝার পরামর্শ দিয়েছেন ফারিহা। এরপর নিজের আগ্রহ ও অভিজ্ঞতার সাথে সেগুলোর মিল রেখে আবেদন প্রস্তুত করার কথা বলেন তিনি।

এদিকে ফারিহা ইকবাল যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মাস্টার্সে একটি বৃত্তি এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবেশব্যবস্থা ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পান তিনি। তবে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন।

টাইমস হায়ার এডুকেশনের ২০২৬ সালের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, কিউএসের ২০২৬ সালের বিষয়ভিত্তিক বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, অক্সফোর্ডের ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ক স্কুল ভূগোল বিষয়ে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে রয়েছে।