প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দুই প্রান্তে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে পণ্য পরিবহন কিংবা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো জরুরি কাজেও সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন না স্থানীয়রা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন রাজনগর উপজেলার অন্তত ১২টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকায় লাঘাটা নদীর ওপর ২০২০ সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কামারচাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-ধলাই খেয়াঘাট সড়কের আওতায় ৬০ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় ৪ কোটি ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৪৯ টাকা।
ঠিকাদারি পায় ‘প্রিন্স মামুন (জেভি)’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের নভেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ওপর সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় ওঠার পথ নেই। ফলে এখনও ডিঙি নৌকা ও নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়েই পার হতে হচ্ছে।
এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দক্ষিণ ইসলামপুর, খাস প্রেমনগর, মিটিপুর, ভোলানগর, শ্যামেরকোনা, নওয়াগাঁও, আলালপুর, হাটিকরাইয়া, গোবিন্দপুর ও কালইকুনাসহ ১২টি গ্রামের মানুষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মুজিব মিয়া বলেন, সেতুটি চালুর আশায় ছিলাম, কিন্তু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের পরও আমাদের দুঃখ ঘুচল না। বর্ষাকালে নৌকা আর সাঁকোই একমাত্র ভরসা।
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল গনি টাইমস টুডেকে বলেন, মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ, বর্ষার কারণে মাটি সংগ্রহ করতে না পারায় এবং জমি অধিগ্রহণে আইনি জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ বিলম্বিত হয়েছে। বিদ্যমান জমিতেই সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার পটুয়াখালী থেকে আসার পর আগামী সপ্তাহে মাটির কাজ পুরোদমে শুরু হবে।


