...|...|...

সারাদেশ

সেতু না থাকায় ৫৫ বছর ধরে দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২৫
Shares
সেতু না থাকায় ৫৫ বছর ধরে দুর্ভোগে ১৫ হাজার মানুষ

ছবি: টাইমস টুডে

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রবাহিত সোমেশ্বরী নদীর ওপর স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হয়নি। ফলে বালিঝুড়িসহ আশপাশের অন্তত ১৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে গেলে তাদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদী বালিঝুড়ি গ্রামের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির কারণে খাড়ামোড়া, রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকুচা ও বালিঝুড়ি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এই গ্রামগুলোর সাথে উপজেলা সদরের যোগাযোগের জন্য বিকল্প কোনো পথ না থাকায় নদী পার হওয়াই একমাত্র ভরসা।

দীর্ঘদিনেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থ ও শ্রমে বাঁশ-কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণ করেন। তবে বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সেই সাঁকো ভেঙে যায়। তখন নৌকায় কিংবা বুকসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন এলাকাবাসী।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, অসুস্থ রোগী ও জরুরি সেবাপ্রত্যাশীরা। প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয় ও কলেজে যেতে হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন ব্যয় গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দেখা দেয় অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি।
স্থানীয়দের দাবি, একটি টেকসই সেতু নির্মিত হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং এলাকার শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

শ্রীবরদী উপজেলা প্রকৌশলী মশিউর রহমান বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য ‘হান্ড্রেড মিটার’ প্রকল্পের আওতায় একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞ দল প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এ কারণে প্রকল্পটির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে।’

শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদ বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।’

শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৫ বছরের এই দুর্ভোগের বিষয়টি সেতু বিভাগ, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সোমেশ্বরী নদীর প্রবল স্রোত ও ভাঙনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, একটি সেতুই বদলে দিতে পারে গারো পাহাড়ের পাদদেশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রার চিত্র।