...|...|...

বিশ্ব

ন্যাটোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে রাশিয়া

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৫৮ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:০৬
Shares
ন্যাটোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, ন্যাটোর সক্ষমতা ও সংকল্প পরীক্ষা করতে রাশিয়া আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। তাঁদের একজনের আশঙ্কা, সম্ভাব্য কোনো হামলা বা উসকানি ‘বছরের পর বছর নয়, বরং কয়েক মাসের মধ্যেই’ ঘটতে পারে। তবে ইউরোপের সব গোয়েন্দা সংস্থা যে আসন্ন হামলার শঙ্কা করছে, তা নয়।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি পার্লামেন্টে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী আগামী মাসগুলোতে রাশিয়া ন্যাটোর ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর সদস্যদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি বা সনদের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ টাস্কের সতর্কবার্তাকে যৌক্তিক ও তথ্য-প্রমাণসমৃদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার তিনি প্যারিসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যও আলোচনায় আসে।

এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা তীব্র হয়েছে। রোববার ইউক্রেন মস্কো ও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শত শত ড্রোন দিয়ে বড় ধরনের হামলা চালায়। এর আগে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলেও রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল।

গত এক সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎকারে ইউরোপের তিনজন গোয়েন্দা প্রধান মস্কোর সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। চেক প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিচাল কৌদেলকা বলেন, রাশিয়া সীমান্তবর্তী ন্যাটো ভূখণ্ডে সীমিত অনুপ্রবেশ, ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ উসকানি কিংবা ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের কোনো অভিযান চালাতে পারে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতি কয়েক মাসের মধ্যেই তৈরি হতে পারে।

তবে এ আশঙ্কা নিয়ে বাল্টিক দেশগুলোর কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। লাটভিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ভিডিডির মহাপরিচালক নরমুন্ডস মেজভিয়েটস বলেন, তাঁরা রাশিয়ার আসন্ন কোনো হামলার ইঙ্গিত দেখছেন না। তাঁর মতে, মস্কো ইউরোপে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন কিছু লক্ষণ থাকলেও সেগুলো সরাসরি সামরিক হামলার পরিকল্পনা, নাকি অস্থিতিশীলতা তৈরির কৌশল, তা স্পষ্ট নয়।

মেজভিয়েটস আরও বলেন, রাশিয়ার সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যক্ষ কোনো হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, নাকি পশ্চিমা সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে দেওয়াই এর উদ্দেশ্য—এটি এখনো অমীমাংসিত প্রশ্ন।

এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল জোনাটান ভসেভিওভও সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, হামলার আশঙ্কার বাস্তব কারণ থাকলে কর্তৃপক্ষ তা স্পষ্টভাবে জানাবে; এর আগে মানুষকে শান্ত থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মেজভিয়েটস বলেন, পশ্চিম ইউরোপ এখন রাশিয়ার হুমকি সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি সচেতন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগে বাল্টিক দেশ ও পোল্যান্ডের সতর্কবার্তাকে পশ্চিম ইউরোপের অনেক দেশ গুরুত্ব দেয়নি। রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান শুরুর পর তাদের অবস্থানে পরিবর্তন আসে।

তবে মেজভিয়েটস বা কৌদেলকা কেউই রাশিয়ার সম্ভাব্য পরিকল্পনা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কী গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ করেননি। গত মাসে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফর ন্যাটোতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে ক্রেমলিনকে সতর্ক করার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়েও তাঁরা মন্তব্য করেননি।

এদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ন্যাটোতে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ ধরনের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং রাশিয়ার উদ্দেশ্যেরও প্রতিফলন নয়।