...|...|...

বিশ্ব

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে বাড়ছে আফিম চাষ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:১৩
Shares
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে বাড়ছে আফিম চাষ

ছবি: সংগৃহীত

তালেবান কর্তৃপক্ষের আরোপিত কঠোর মাদকনীতি ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আফগানিস্তানে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে আফিম উৎপাদন। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের এক নতুন জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৬ সালে দেশটিতে পপি চাষ ও আফিম উৎপাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। খামা প্রেসের এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইমস সম্পর্কিত দপ্তর ‘ইউএনওডিসি’-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বছরে আফিম পপি চাষের জমি ৩৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। একই সাথে আফিমের মোট উৎপাদন ৪০০ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় ১,৫০০ টনে। ২০২২ সালে তালেবান সরকার মাদক নিষিদ্ধ করার পর এবারই প্রথম এত বড় ধরনের বৃদ্ধির ঘটনা ঘটল।

জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে পপি চাষের আয়তন ছিল প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এবং উৎপাদন ছিল আনুমানিক ৩০০ টন। তবে ২০২৬ সালের এই উল্লম্ফন সত্ত্বেও আফিম চাষ ও উৎপাদনের পরিমাণ ২০২২ সালের নিষেধাজ্ঞা পূর্ববর্তী রেকর্ড ছাড়াতে পারেনি।

ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৬টি প্রদেশেই পপি চাষ ছড়িয়ে পড়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৫টি প্রদেশ বেশি। বর্তমানে দেশটির মোট পপি চাষ হওয়া এলাকার চার ভাগের তিন ভাগই উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি একটি বড় ধরনের ভৌগোলিক পরিবর্তন, কারণ নিষিদ্ধ করার আগে আফিমের সিংহভাগ চাষ হতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পপি ক্ষেত ধ্বংস করার সরকারি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তালেবান কর্তৃপক্ষ ২২ হাজার হেক্টর জমির পপি ধ্বংসের দাবি করেছে। তবে ধরাছোঁয়া এড়িয়ে চলতে কৃষকরা নানা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। অনেকেই শস্যক্ষেতের আড়ালে ছোট ছোট পপি ক্ষেত লুকানো, চার দেয়ালে ঘেরা উঠানে চাষ করা এবং ধরা পড়া এড়াতে বপন ও ফসল কাটার সময়ে তারতম্য আনার মতো পন্থা বেছে নিচ্ছে।

ইউএনওডিসি-র নির্বাহী পরিচালক মনিকা জুমা জানান, বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকলে অবৈধ পপি চাষ পুরোপুরি বন্ধ রাখা কতটা কঠিন, এই নতুন জরিপ তারই বাস্তব চিত্র। তিনি বলেন, তালেবান প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কৃষকদের বিকল্প জীবিকা, কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

জরিপে দেখা গেছে, আফিমের দর কেজিতে কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালে প্রতি কেজি আফিমের দাম যেখানে ছিল ৫৭০ ডলার, ২০২৬ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৫০০ ডলারে। তবে নিষেধাজ্ঞা পূর্ববর্তী সময়ের প্রতি কেজি ১০০ ডলারের কম দামের তুলনায় বর্তমান মূল্য এখনও অনেক বেশি। ফলে মাদক ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে এর অবৈধ চাষ ও পাচারের প্রবণতা থেকেই যাচ্ছে।

ইউএনওডিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আঞ্চলিক মাদক পাচার চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে। প্রথম দিকে হয়তো মজুতকৃত পুরোনো আফিম ব্যবহার করে তারা সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেছিল, তবে সাম্প্রতিক বাজেয়াপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে সেই পুরোনো মজুত ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে। এমনকি সংস্থাটির ‘২০২৬ বিশ্ব মাদক প্রতিবেদন’-এ ইউরোপে হেরোইন সরবরাহে ঘাটতি পড়ার প্রাথমিক লক্ষণও চিহ্নিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দাম ও অব্যাহত চাহিদার বিপরীতে মজুত কমে আসায় আফগানিস্তানে আবার বড় পরিসরে আফিম চাষের উদ্দীপনা তৈরি হতে পারে। এই হঠাৎ বৃদ্ধি কি সাময়িক, নাকি এটি পপি ও হেরোইন উৎপাদনের স্থায়ী পুনরুত্থান নির্দেশ করছে—তা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিবিড় নজরদারির তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মনিকা জুমা আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রমকারী এসব আন্তর্জাতিক মাদক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার জন্য বহুপাক্ষিক সহযোগিতার পাশাপাশি আফগান কৃষকদের জন্য টেকসই বিকল্প জীবিকা নিশ্চিত করতে উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।