ঢাকার বাসে ওঠার সময় পকেট থেকে চুরি হওয়া নিজের সাধের স্যামসাং স্মার্টফোনটির অবস্থান দুই মাস পর প্রযুক্তিগত উপায়ে সুদূর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ট্র্যাক করেছেন এক বাংলাদেশি যুবক। বহুমূ্ল্য এই ফোনটি উদ্ধারের জন্য এবার আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আফগান সংবাদমাধ্যম ‘খাামা প্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট ঢাকার একটি বাসে ওঠার সময় তার পকেট থেকে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মডেলের স্মার্টফোনটি চুরি হয়ে যায়। এর মাত্র দুই দিন আগে, অর্থাৎ ৭ আগস্ট ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি টাকা (প্রায় ৯১০ মার্কিন ডলার) খরচ করে ফোনটি কিনেছিলেন তিনি। ফোন হারানোর পর গত ১৮ আগস্ট তিনি ঢাকার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা চুরির অভিযোগ দায়ের করেন এবং নিজ দায়িত্বে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যান।
ফোন ট্র্যাক করে মিলল কাবুলের সন্ধান
স্যামসাংয়ের নিজস্ব ফোন-ট্র্যাকিং অ্যাপ্লিকেশন বা ফাইন্ড মাই মোবাইল অ্যাপের স্ক্রিনশট অনুযায়ী, ডিভাইসটির বর্তমান অবস্থান দেখাচ্ছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে। মনির হোসেনের সরবরাহ করা তথ্য অনুসারে, ফোনটি চুরির প্রায় দুই মাস পর গত ১১ অক্টোবর আফগানিস্তানে সেটিতে একটি নতুন সিম কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল।
এই ট্র্যাকিং ডেটা বা অবস্থান শনাক্তকরণের তথ্য থেকে পরিষ্কার যে, ডিভাইসটি ঢাকা থেকে পাচার হয়ে একেবারে আফগানিস্তানে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে ঠিক কে বা কারা ফোনটি বাংলাদেশ থেকে কাবুলে নিয়ে গেল কিংবা বর্তমানে কার ব্যবহারে সেটি রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মনির হোসেন ফোনটির ক্রয় রসিদ, থানায় করা চুরির অভিযোগের কপি এবং ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া ডিজিটাল লোকেশনের সমস্ত তথ্য যথাযথ প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করেছেন এবং সহায়তার আবেদনে তা যুক্ত করেছেন।
তালেবান প্রশাসনের কাছে আকুতি
আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক চিঠিতে মনির হোসেন তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তার চুরি যাওয়া ফোনটি খুঁজে বের করে ফিরিয়ে দেওয়ার জোরালো আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশি পুলিশের কাছে করা চুরির অভিযোগপত্র, সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ট্র্যাকিং রেফারেন্স, ফোনের লাইভ লোকেশনের স্ক্রিনশট এবং ক্রয়ের পাকা ভাউচার তিনি জমা দিয়েছেন। তার এই আবেদনের মূল উদ্দেশ্য—আফগান কর্তৃপক্ষ যেন তাদের ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও লোকেশন রেকর্ড ব্যবহার করে ডিভাইসটি উদ্ধার করতে সহায়তা করে।
তবে এখন পর্যন্ত আফগান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ফোনটি খুঁজে পাওয়া গেছে কি না কিংবা এ বিষয়ে কোনো উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। মনির হোসেনের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে আধুনিক স্মার্টফোন ট্র্যাকিং টুলগুলো আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে যাওয়া চোরাই ডিভাইসের নিখুঁত অবস্থান শনাক্ত করতে কতটা কার্যকর। তবে কেবল লোকেশন ডেটা থাকলেই যে ফোনটি দখলদার ব্যক্তির কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বা সুনির্দিষ্ট পরিচয় পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।


