...|...|...

বিশ্ব

ভারতে প্রেমিকার কাছে সামরিক তথ্য ফাঁস, সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৫৮
Shares
ভারতে প্রেমিকার কাছে সামরিক তথ্য ফাঁস, সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-র অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গোপনীয় তথ্য প্রেমিকার কাছে পাচারের অভিযোগে দেশটির সেনাবাহিনীর এক সাবেক ক্যাপ্টেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তামিলনাড়ুর ভেলোর অঞ্চল থেকে ৫২ বছর বয়সি অভিযুক্ত ওই সাবেক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়।

পুলিশের বরাতে জানা গেছে, তদন্তকারীদের জোরালো ধারণা যে, ওই নারী প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদ পেতে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে বাবুর কাছ থেকে সংগ্রহ করা গোপনীয় নথি বা তথ্য অন্য কোথাও পাচার করা হয়েছিল কি না, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এমনকি ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় এবং জাতীয়তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের সংবেদনশীল তথ্য কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা যায় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে ডিআরডিও-র সাথে যুক্ত ছিলেন।

ওই নারী পাকিস্তানের কোনো নাগরিক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা পরিষ্কার করেন যে, এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, আইপি-অ্যাড্রেস সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপ কর্র্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সেই তথ্য হাতে আসার পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার যৌথ অভিযানে সাবেক ওই সেনাসদস্যকে পাকড়াও করা হয়। ভেলোর সংলগ্ন তিরুভান্নামালাই জেলার আরানি এলাকার একটি গোপন আস্তানা থেকে তাকে শনাক্ত করে পুলিশ।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত বাবু ১৯৯৪ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পূর্বে আর্টিলারি রেজিমেন্টে ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বর্ণাঢ্য সামরিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং পরবর্তী সময়ে ডিআরডিওর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে কাজের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তকারীদের বিশেষ নজর কেড়েছে। তিনি ঠিক কী ধরনের গোপনীয় তথ্য ওই নারীর কাছে পাচার করেছিলেন, তা এখন গভীরভাব যাচাই করা হচ্ছে।

প্রাথমিক আটকের পর সামরিক গোপনীয়তা ভঙ্গের অপরাধে তামিলনাড়ু পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের জন্য তাকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্তকারী দল এখন বাবুর মোবাইল ও ডিজিটাল মাধ্যমের যোগাযোগের রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে। এর মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের পরিধি কতদূর বিস্তৃত ছিল, ওই নারীর আসল পরিচয় কী এবং এর পেছনে কোনো বিদেশি গোয়েন্দা চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।