...|...|...

বিশ্ব

সৌদির প্রতিরক্ষায় সেনা পাঠানোর অনুমতি পেলেন সিসি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৬ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৭
Shares
সৌদির প্রতিরক্ষায় সেনা পাঠানোর অনুমতি পেলেন সিসি

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বাড়তে থাকায় সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মিশরের পার্লামেন্ট।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) পার্লামেন্টের এ সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের অনুরোধে দেশটির নিরাপত্তা ও সীমান্ত রক্ষায় সামরিক সহায়তা দিতে পারবেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। তবে ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কায়রো।

মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-আহরামের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পার্লামেন্টের সদস্যরা সিসিকে সৌদি আরবকে সহায়তা ও প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। এর আগে গত ১৭ অক্টোবর সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পার্লামেন্টের অনুমোদন চান সিসি।

মিশরের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের বাইরে সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধসংশ্লিষ্ট অভিযানে পাঠাতে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং পার্লামেন্টের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই পার্লামেন্টে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটি হয়।

সিসি আগেই স্পষ্ট করেছেন, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অর্থ ইয়েমেনে আক্রমণ চালানো নয়। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মিশরের সামরিক ভূমিকা সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সীমান্ত রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবে সফর করেন মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি ও দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ। তারা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সিসির একটি লিখিত বার্তা পৌঁছে দেন। ওই বার্তায় সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি মিশরের সমর্থন ও সংহতির কথা তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে ইয়েমেনের সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পক্ষেও অবস্থান জানিয়েছে কায়রো।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে হুথিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। এসব হামলায় বিমান চলাচল ও জ্বালানি রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি সুয়েজ খালের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের অংশ। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সৌদি আরবের পাশাপাশি মিশরের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সৌদি আরব মিশরের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদার। দেশটি বিভিন্ন সময়ে মিশরকে আর্থিক সহায়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত এবং জ্বালানি সরবরাহ করেছে। দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিনের সহযোগিতাও রয়েছে।

এর আগে ২০১৫ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে অংশ নিয়েছিল মিশর। সে সময় লোহিত সাগরের নৌপথ সুরক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক স্থলসেনাও মোতায়েন করেছিল দেশটি। তবে পরবর্তী সময়ে মিশর বড় পরিসরে বিদেশে স্থলসেনা মোতায়েন থেকে বিরত থেকেছে।

পার্লামেন্টের সাম্প্রতিক অনুমোদন সৌদি আরবের নিরাপত্তায় মিশরের সামরিক সহায়তার পথ তৈরি করলেও বাস্তবে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে সৌদি আরবের অনুরোধ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। এদিকে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে না দিয়ে কূটনৈতিকভাবে ইয়েমেন সংকট সমাধানের ওপরও জোর দিচ্ছে কায়রো।