...|...|...

বিশ্ব

ডিভি লটারি নিয়ে বড় আপডেট, এক নজরে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৮
Shares
ডিভি লটারি নিয়ে বড় আপডেট, এক নজরে সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় মাধ্যম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারি’। ২০২৭ সালের ডিভি লটারি প্রোগ্রাম নিয়ে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মার্কিন আদালতের সাম্প্রতিক নির্দেশনা ও নতুন কিছু সম্ভাব্য নিয়মের কারণে এবারের সাইকেলটি পূর্বের তুলনায় বেশ আলাদা।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের বৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখতে এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে বাধ্য করতে আদালতের আদেশে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি (ডিভি লটারি) কর্মসূচি পুনরায় চালু হতে চলেছে। যেসব দেশ থেকে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে খুব বেশি অভিবাসী যায় না, সেই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এই লটারি কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক ম্যাগাজিন ‘ফোর্বস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর মার্কিন জেলা জজ জিনসুক ওহতা দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টকে বিলম্বিত ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি কর্মসূচি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায় একদিকে যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসনের সুযোগ রক্ষা করেছে, অন্যদিকে তেমনি নির্বাহী বিভাগ কংগ্রেসের আইন লঙ্ঘন করতে পারে না—এমন একটি সাংবিধানিক নীতিকেও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ফেডারেল বিচারকের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সাথে, আপিল চলাকালীন ওই আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখতে বিচারকের কাছে আলাদা একটি আবেদনও করা হয়েছে।

লটারি চালুর পেছনের ইতিহাস ও কারণ

প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের স্বাক্ষরিত ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে এই ডাইভারসিটি লটারি কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। মূলত পোস্ট-১৯৬৫ ব্যবস্থার আওতায় কিছু দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যার ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পারিবারিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক প্রসেসিংয়ের বাইরে থেকে আসা সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলোর জন্য সুযোগ তৈরিই এর মূল লক্ষ্য ছিল। সময়ের সাথে সাথে এই কর্মসূচিতে আফ্রিকান উপভোক্তাদের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

এই লটারির বরাদ্দকৃত কোটার মধ্যে মূল আবেদনকারীর স্ত্রী এবং সন্তানরাও অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ এর অর্থ এই নয় যে ৫৫ হাজার মূল আবেদনকারীর বাইরে তাদের পরিবার আলাদা কোটা পাবে। রক্তের সম্পর্ক বা নিয়োগকর্তার ওপর নির্ভরশীল অভিবাসন ব্যবস্থা বারবার এমন লোকদেরই সুবিধা দেয়, যাদের ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নিজস্ব যোগাযোগ রয়েছে। সে কারণেই যাদের সেই সুবিধা নেই, তাদের পরিবারের জন্য আমেরিকায় প্রথম পদচিহ্ন স্থাপন করার একটি আলাদা সুযোগ তৈরি করে দেয় এই লটারি।

ডিভি লটারি ২০২৭-এর সার্বিক পরিস্থিতি, আবেদনের শর্ত ও সময়সূচি নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:
আদালতের নির্দেশে নতুন সময়সূচি
একটি মার্কিন ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক আদেশ অনুযায়ী এবারের লটারির সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করায় চূড়ান্ত সময়সূচি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল:
  • অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ (সম্ভাব্য)
  • আবেদন গ্রহণ শুরু: ১ নভেম্বর ২০২৬ (সম্ভাব্য)
  • আবেদনের সময়সীমা: পোর্টাল চালুর পর টানা ৩০ দিন।
কোটা ও প্রাথমিক নির্বাচন
প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বব্যাপী মোট ৫৫,০০০ জনকে চূড়ান্ত ডাইভার্সিটি ভিসা প্রদান করা হবে। তবে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই, মেডিকেল ও ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় অনেকেই বাদ পড়েন বিধায় প্রাথমিক ড্র-তে প্রায় ১,০০,০০০ জনকে বাছাই করা হয়ে থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ থেকে মোট ভিসার ৭ শতাংশের বেশি (সর্বোচ্চ প্রায় ৩,৮৫০ জন) নাগরিককে ভিসা দেওয়া হয় না।
যুক্ত হচ্ছে নতুন নিয়ম ও আবেদন ফি
বিগত বছরগুলোতে ডিভি লটারির আবেদন সম্পূর্ণ নিখরচায় করা গেলেও, এবারের DV-2027 সাইকেলে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে:
  • ১ ডলার ফি: আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এবার ১.০০ মার্কিন ডলার (নন-রিফান্ডেবল) প্রসেসিং ফি ধার্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
  • পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন: আবেদনকারীকে অবশ্যই বৈধ ও মেয়াদ সচল থাকা পাসপোর্টের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক পাতার স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে।
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যোগ্যতা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিভি লটারি নিয়ে নানা প্রচার-প্রচারণা থাকলেও সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উচ্চ অভিবাসনের হারের কারণে বাংলাদেশ ২০১২ সাল থেকেই ডিভি লটারির অযোগ্য দেশের তালিকায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী সাধারণ নাগরিকরা শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পাসপোর্ট থাকা সত্ত্বেও সরাসরি এই লটারিতে অংশ নিতে পারবেন না। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের স্বামী/স্ত্রী যদি ডিভি লটারির জন্য যোগ্য কোনো দেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তবে তিনি স্পাউসের সূত্রে আবেদনের সুযোগ পেতে পারেন। বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আসন্ন লটারিতে বাংলাদেশ যোগ্য দেশের তালিকায় থাকবে কি না। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশিদের আবেদনের সুযোগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা (যোগ্য দেশগুলোর জন্য)
যেসব দেশের নাগরিকরা আবেদনের যোগ্য, তাদের নিচের দুটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে:
১. ন্যূনতম ১২ বছরের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা (এইচএসসি বা সমমান পাস)।
২. অথবা, বিগত ৫ বছরের মধ্যে অন্তত ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা (এমন পেশা যা সম্পন্ন করতে কমপক্ষে ২ বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়)।
জালিয়াতি ও প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ডিভি লটারির আবেদনের জন্য শুধুমাত্র একটিই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে এবং তা হলো dvprogram.state.gov। কোনো আবেদনকারী লটারিতে বিজয়ী হলে তাকে কখনোই ইমেইল, চিঠি বা ফোনের মাধ্যমে জানানো হয় না। আবেদনকারীকে নিজে থেকেই তার ইউনিক 'কনফার্মেশন নম্বর' ব্যবহার করে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে স্ট্যাটাস চেক করতে হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভুয়া লিংক বা ডিভি লটারির নামে অর্থ দাবিকারীদের থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।