...|...|...

সারাদেশ

নামাজ শেষে লটারির ফল মিলিয়ে পেলেন ৩০ লাখ টাকার পুরস্কারের নম্বর

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৬:১৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১০
Shares
নামাজ শেষে লটারির ফল মিলিয়ে পেলেন ৩০ লাখ টাকার পুরস্কারের নম্বর

সংসারের টানাপোড়েনের মধ্যেও ৪০ টাকা খরচ করে দুটি লটারির টিকিট কিনেছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের হানিফ মিয়া (৩১)। কয়েক দিন পর নামাজ শেষে অনলাইনে লটারির ফল মিলিয়ে নিজের একটি টিকিটের নম্বর ৩০ লাখ টাকার প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে মিলে যাওয়ার দাবি করেছেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিজয়ী বলা যাচ্ছে না।

হানিফ মিয়া উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে চাকরির পাশাপাশি হাঁসের খামার ও কৃষিকাজ করে সংসার চালান।

হানিফ জানান, স্থানীয় বাজারে ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) জাতীয় লটারি-২০২৬’-এর টিকিট বিক্রির খবর পেয়ে কৌতূহল থেকে ২০ টাকা করে দুটি টিকিট কেনেন। পরে অনলাইনে লটারির ফল দেখতে গিয়ে একটি টিকিটের নম্বর প্রথম পুরস্কারের নম্বরের সঙ্গে মিলে যায় বলে দেখতে পান।

এরপর টিকিটটি নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে যান তিনি। সেখানে কর্মকর্তারা টিকিটটি প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করেন। তবে চূড়ান্ত যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পুরস্কারের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।

হানিফের স্ত্রী নীলা আক্তার বলেন, সংসারের টানাপোড়েনের কারণে ৪০ টাকা দিয়ে লটারির টিকিট কেনায় তিনি স্বামীকে বকাঝকা করেছিলেন। পরে নামাজ শেষে হানিফ তাকে লটারির ফল দেখতে বলেন। নম্বর মিলে যাওয়ার পর কয়েকবার যাচাই করেও তারা বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

তিনি বলেন, সত্যিই যদি পুরস্কারের টাকা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের সংসারে অনেক স্বস্তি ফিরবে।

হানিফের জীবনেও দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকট রয়েছে। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়ার পর মা হামিদা বেগমকে নিয়ে নানা বাড়িতে বড় হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বসতভিটার জমি নিয়ে পারিবারিক জটিলতায়ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।

প্রথম পুরস্কারের টাকা পেলে নিজের একটি ফার্মেসি করার পাশাপাশি হাঁসের খামার বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে হানিফের। পরিবারের দায়িত্বও আরও ভালোভাবে পালন করতে চান তিনি।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির জাতীয় লটারি প্রকল্পের পরিচালক হাজী মো. আলম কবির বলেন, প্রথম পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে এখন পর্যন্ত হানিফ মিয়াই মূল টিকিট নিয়ে কার্যালয়ে এসেছেন। টিকিটটি প্রাথমিকভাবে সঠিক মনে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষে বিষয়টি নিশ্চিত হবে।

তিনি জানান, চলতি মাসের ২০ তারিখের পর যাচাই-বাছাই শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।