গণপূর্ত অধিদফতরে বদলি ও পদায়নে অনিয়ম এবং তদবির বন্ধ করতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা কিছু গণমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, যা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে ‘জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গণপূর্ত অধিদফতরের বদলি ও পদায়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ও অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে তদবির ও প্রভাবমুক্ত একটি ব্যবস্থা চালুর চিন্তা থেকেই লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বদলি ও পদায়নে ব্যক্তিগত তদবির কিংবা প্রভাবের সুযোগ বন্ধ করতেই সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত পরিবেশে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ৪০ থেকে ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এ পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
জাকারিয়া তাহের বলেন, সব ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। কিছু বিষয়ে মানবিক বিবেচনার প্রয়োজন হয়। সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বদলি ও পদায়নে বাণিজ্য বন্ধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এ প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা কষ্টদায়ক।
গণমাধ্যমের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্দশাগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করতেও গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে।
সমাবেশে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


