বিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি বিষয়। তবে নানা সামাজিক বাস্তবতা ও পরিস্থিতির কারণে অনেকের বিয়ে বিলম্বিত হয়। এতে অনেকে মানসিকভাবে হতাশ হয়ে পড়েন। ইসলামি দৃষ্টিতে দোয়া ও আমলের পাশাপাশি বাস্তব প্রচেষ্টার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত ও উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়ার আশায় ইসলামি বিশেষজ্ঞরা কিছু আমল ও করণীয় পালনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে-
১. নিয়মিত ইস্তেগফার করা
ইস্তেগফার শুধু গুনাহ মাফের মাধ্যম নয়, বরং জীবনের সংকট দূর ও কল্যাণ লাভের অন্যতম উপায়। তাই নিয়মিত ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পাঠ করা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২. নেক জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়া করা
সুখী ও দ্বীনদার পরিবার গঠনের জন্য উত্তম জীবনসঙ্গীর দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সুরা ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতের দোয়া পড়ার কথা বলা হয়েছে।
৩. নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করা
সুরা কাসাসের ২৪ নম্বর আয়াতের দোয়া-‘হে আমার রব! আপনি আমার প্রতি যে কল্যাণ নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী’ পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৪. দোয়া কবুলের বিশেষ সময়গুলো কাজে লাগানো
সেজদার সময়, ফরজ নামাজের পর, শেষ রাতে এবং জুমার দিনের বিশেষ সময়ে আন্তরিকভাবে দোয়া করার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
৫. হালাল পন্থায় বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া
শুধু দোয়া নয়, পাত্র বা পাত্রীর সন্ধানে পরিবার, আত্মীয় ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
৬. রুকইয়া করা
কু-নজর, হিংসা বা অন্য কোনো আত্মিক সমস্যার আশঙ্কা থাকলে কোরআন ও সহিহ হাদিসভিত্তিক রুকইয়া করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত সুরা ফাতেহা, আয়াতুল কুরসি, ফালাক ও নাস পাঠ করা যেতে পারে।
৭. নিয়মিত সদকা করা
সদকা বিপদ দূর ও আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সদকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৮. অন্যের জন্য বিয়ের দোয়া করা
অন্য মুসলিম ভাই-বোনের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করলে নিজের জন্যও কল্যাণের দরজা খুলে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৯. মা-বাবার সন্তুষ্টি অর্জন করা
মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণ, তাদের সম্মান ও খেদমত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম মাধ্যম বলে মনে করা হয়।
১০. সংযম ও রোজা পালন করা
বিয়ের ব্যবস্থা না হলে এবং নফসের চাপ বাড়লে রোজা রাখার মাধ্যমে আত্মসংযমের চর্চা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১১. হতাশ না হয়ে ধৈর্য রাখা
বিয়েতে বিলম্বকে অভিশাপ না ভেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা বা কল্যাণের প্রস্তুতি হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। দোয়া, আমল ও চেষ্টা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি দৃষ্টিতে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তাই উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য দোয়ার পাশাপাশি নিজের চরিত্র, আচরণ ও দায়িত্বশীলতার দিকেও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।


