...|...|...

ধর্ম

জিহ্বা সংযত রাখার ৫ উপকারিতা ও ইসলামের শিক্ষা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৩৪
Shares
জিহ্বা সংযত রাখার ৫ উপকারিতা ও ইসলামের শিক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

মানুষের ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও মনোভাবের অন্যতম প্রকাশ ঘটে তার কথাবার্তায়। একটি সুন্দর কথা যেমন মানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে, তেমনি অসংযত একটি বাক্য তৈরি করতে পারে বিরোধ, বিবাদ ও অশান্তি। এ কারণে ইসলামে জিহ্বার হেফাজত বা কথাবার্তায় সংযমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইসলামের শিক্ষা হলো, একজন মুমিন হয় ভালো কথা বলবেন, নয়তো নীরব থাকবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)

জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা শুধু সামাজিক সম্পর্ক সুন্দর রাখার উপায় নয়, বরং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জিহ্বার সংযমের কয়েকটি উপকারিতা তুলে ধরা হলো-

১. গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা

জিহ্বার অসংযত ব্যবহারের কারণে মানুষ সহজেই মিথ্যা, গিবত, অপবাদ, পরনিন্দা, চোগলখোরি ও গালাগালের মতো গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকলে এসব পাপের ঝুঁকিও কমে আসে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে নীরব থাকে, সে মুক্তি পায়।’ (জামে তিরমিজি, ২৫০১; বর্ণনাটির মান নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে)

২. শয়তানের প্ররোচনা থেকে দূরে থাকা

অহেতুক কথাবার্তা অনেক সময় মানুষকে ঝগড়া, বিদ্বেষ ও অহংকারের দিকে ঠেলে দেয়। এসবের সুযোগে শয়তান মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। তাই কথা বলার আগে চিন্তা করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বিতর্কে না জড়ানো একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

আবু জার (রা.)-কে দীর্ঘ নীরবতা অবলম্বনের উপদেশসংক্রান্ত একটি বর্ণনা ইমাম বায়হাকি তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে এর বর্ণনাগত মান বিবেচনায় নিয়ে উদ্ধৃতিটি ব্যবহার করা উচিত।

৩. আত্মিক প্রশান্তি অর্জন

অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা ও অনর্থক বিতর্ক মানুষের মনকে অস্থির করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, সংযতভাবে কথা বলা, নিজের ভুল নিয়ে চিন্তা করা এবং আল্লাহর জিকিরে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি ও আত্মিক উন্নতিতে সহায়ক। নীরবতা তখনই কল্যাণকর, যখন তা মানুষকে ভালো কাজ ও আত্মশুদ্ধির দিকে নিয়ে যায়।

৪. ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি

যে ব্যক্তি প্রয়োজন বুঝে কথা বলেন এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, সাধারণত তার প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়ে। অযথা কথা না বলা, কাউকে অপমান না করা এবং বিতর্ক এড়িয়ে চলা মানুষের ব্যক্তিত্বকে আরও সুন্দর করে তোলে। ইসলামে মানুষের সম্মান রক্ষা এবং অন্যকে কষ্ট না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

৫. প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয়

কোথায় কথা বলতে হবে, কখন নীরব থাকতে হবে এবং কীভাবে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে হবে- এসব বুঝতে পারা বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। পরিমিত কথাবার্তা মানুষকে ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করে।

এ প্রসঙ্গে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে- ‘কথা যদি রুপার মতো হয়, নীরবতা সোনার মতো।’ এটি প্রজ্ঞামূলক বাণী হিসেবে পরিচিত; একে নির্ভরযোগ্য হাদিস হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।

জিহ্বার হেফাজতই মুমিনের সৌন্দর্য

ইসলাম মানুষকে সব সময় চুপ থাকতে বলে না; বরং সত্য, ন্যায় ও কল্যাণের কথা বলতে উৎসাহিত করে। অন্যায়ের প্রতিবাদ, সত্যের পক্ষে কথা বলা এবং মানুষের উপকারে আসে এমন বক্তব্য দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে সেই কথাও হতে হবে শালীন ও সংযত।

তাই কথা বলার আগে তার প্রয়োজনীয়তা ও পরিণতি নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ মানুষের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি কথারই হিসাব দিতে হবে। জিহ্বাকে সংযত রেখে কল্যাণকর কথা বলার অভ্যাস গড়ে তোলাই একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।