...|...|...

বিশ্ব

দিল্লিতে মোদির বাসভবনের কাছে ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:২৪ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩৯
Shares
দিল্লিতে মোদির বাসভবনের কাছে ঐতিহাসিক মসজিদ উচ্ছেদের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ ছয় দিনের মধ্যে খালি করার নোটিশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মসজিদটিকে সরকারি জমিতে অবস্থিত ‘অননুমোদিত স্থাপনা’ উল্লেখ করে এ নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এলঅ্যান্ডডিও)। এদিকে, মসজিদটির ঐতিহ্যগত মর্যাদা তুলে ধরে সেটি রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর মসজিদটি খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়। এর আগে গত ৭ অক্টোবর মসজিদটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের (এনডিএমসি) ওয়েবসাইটে রেস কোর্স মসজিদকে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মসজিদ ও এর পাশের কবরস্থান রক্ষায় কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ। গত ১৯ অক্টোবর সংগঠনটির একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। এতে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের দিল্লি গেজেটে উল্লেখিত এনডিএমসির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার তালিকা এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত তালিকায়ও স্থানটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সংগঠনটি এ বিষয়ে দিল্লি ওয়াকফ বোর্ড ও এনডিএমসির কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে। পাশাপাশি, আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদটি ভেঙে ফেলার মতো কোনো পদক্ষেপ না নিতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জমিয়তের আবেদনের পর মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টার’ আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে।

এদিকে, মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ হারুন দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন। দ্য হিন্দুস্তান গেজেটকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, গত ছয় মাস ধরে বিষয়টি বোর্ডকে জানালেও কার্যকর কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এনডিএমসিকে চিঠি দেওয়া ছাড়া বোর্ড আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইমাম হারুনের জানান, মসজিদটি স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি। ২০২১ সালের একটি জরিপেও এটিকে অননুমোদিত স্থাপনা বা অবৈধ দখল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে এসব দাবির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

মসজিদে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি সংগ্রহ ও যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানান ইমাম। তাঁর অভিযোগ, ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বারবার আবেদন করেও সাড়া পাননি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে যাওয়ার অনুমতি চাইলেও বোর্ড নিজে আদালতে যায়নি, তাঁকেও যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

মসজিদকে ঘিরে এই বিরোধ রাজধানীর ওই এলাকায় চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যেই সামনে এসেছে। দ্য হিন্দুস্তান গেজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর দিল্লি হাইকোর্ট রেস কোর্স রোড এলাকা থেকে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরা পুনর্বাসন এলাকায় স্থানান্তর এবং সেখানে শিক্ষা, পরিবহন ও পয়োনিষ্কাশন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্দেশনায় রয়েছে।

মসজিদটির জমির আইনি অবস্থান ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধের মধ্যে এর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।