আগামী সেপ্টেম্বর সেমিস্টার থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রদানে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের আইইকিউএএস-এর সনদপ্রাপ্ত কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। কারণ কিছু নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ ঘোষণায় এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে যে, সেপ্টেম্বরের সেমিস্টার থেকে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানে সীমাবদ্ধতার আওতায় পড়বে। এই নিষেধাজ্ঞা ডিগ্রি প্রোগ্রামের জন্য ‘ডি-২’ এবং ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য ‘ডি-৪’ উভয় প্রকার ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে তাদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইইকিউএএস সার্টিফিকেশন স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে শিক্ষা ও বিচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সর্বশেষ তালিকা প্রকাশিত হয়, যেখানে সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
আইইকিউএএস-এর অধীনে সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরলীকৃত ভিসা স্ক্রিনিংয়ের মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়, তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয়।
যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ডিগ্রি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো— গুমগাং ইউনিভার্সিটি, সুওন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি, জুং-অং সাংহা ইউনিভার্সিটি, হিউপসাং ইউনিভার্সিটি, বুসান কিউংসাং কলেজ, বুসান আর্টস কলেজ, হানিয়ং ইউনিভার্সিটি, দ্য স্যালভেশন আর্মি গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি ফর অফিসার ট্রেনিং, ট্রান্সন্যাশনাল ল অ্যান্ড বিজনেস ইউনিভার্সিটি, নুংইন ইউনিভার্সিটি, বাইবেল ব্যাপ্টিস্ট থিওলজিক্যাল সেমিনারি, সুনবোকুম থিওলজিক্যাল সেমিনারি, এজরা বাইবেল ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ, হিলিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি, কোরিয়া কাউন্সেলিং গ্র্যাজুয়েট ইউনিভার্সিটি এবং হাপদং থিওলজিক্যাল সেমিনারি।
ভাষা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া অপর চারটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো— দায়গু হানিয় ইউনিভার্সিটি, সাংজি ইউনিভার্সিটি, হোওন ইউনিভার্সিটি এবং মোকপো সায়েন্স ইউনিভার্সিটি।
মূল্যায়ন পদ্ধতি ও মানদণ্ড আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিকীকরণ অবকাঠামো ও কৌশল, শিক্ষার্থী নির্বাচন ও সহায়তা কর্মসূচি এবং একাডেমিক ও ক্যারিয়ারের ফলাফল—এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল্যায়ন করে থাকে সরকার।
ডিগ্রি প্রদানকারী চার বছর মেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে মূল্যায়নে অবৈধভাবে বসবাসরত শিক্ষার্থীর অনুপাত নির্ধারিত সীমার নিচে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আন্তর্জাতিকীকরণ অবকাঠামো ও কৌশল, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নির্বাচনের উপযুক্ততা এবং অন্তত ৮০ শতাংশ টিউশন ফি পরিশোধের হার—এই তিনটি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত দুটিতে উত্তীর্ণ হতে হয়।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সহায়তার ক্ষেত্রেও তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তত দুটিতে উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক: বছরে অন্তত একবার প্রাসঙ্গিক আইন ও প্রবিধান সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান, একাডেমিক সহায়তা প্রদান এবং দৈনন্দিন জীবন ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে সহায়তা করা। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার নিচে ঝরে পড়ার হার, প্রত্যয়িত ভাষা দক্ষতার অনুপাত এবং ছাত্র সন্তুষ্টি ও ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি ক্যাটাগরির মধ্যে অন্তত দুটিতে উত্তীর্ণ হতে হবে।
যে শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছেন, তাদের আইইকিউএএস সনদপ্রাপ্ত অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সুযোগ সরকারের ‘স্টাডি ইন কোরিয়া’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সনদপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে জানা যাবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে ৩৯টি ‘উৎকৃষ্ট সনদপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়’ বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়, যেগুলো ভিসা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে।
আবেদনকারীদের ‘স্টাডি ইন কোরিয়া’ ওয়েবসাইট দেখে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে সার্টিফিকেশনটি সমস্ত ক্যাম্পাসের জন্য প্রযোজ্য নাকি কেবল মূল ক্যাম্পাসের জন্য, কারণ কিছু স্কুল এবং সেগুলোর ক্যাম্পাস আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হয়।
এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—কোনক ইউনিভার্সিটি, হংকং ইউনিভার্সিটি, কিয়ং হি ইউনিভার্সিটি, কেইমিউং ইউনিভার্সিটি, দংগুক ইউনিভার্সিটি, বুসান ইউনিভার্সিটি অব ফরেন স্টাডিজ, সুংশিন উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, সেজং ইউনিভার্সিটি, জেজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, চুং-অং ইউনিভার্সিটি, হানিয়ং ইউনিভার্সিটি এবং হংকং ইউনিভার্সিটি।
এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র একটি স্ট্যান্ডার্ড অ্যাডমিশন সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করেই ভিসা স্ক্রিনিং সম্পন্ন করতে পারেন। এটি প্রক্রিয়াটিকে সহজ করে তোলে এবং ভিসা পেতে প্রয়োজনীয় সময় কমিয়ে আনতে পারে।


