ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর তেল নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিতে এবং তা এড়াতে সহযোগিতার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঠিক পরের দিনই মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলোর তালিকা প্রকাশ করে। প্রভাবশালী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপে নেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে অর্থায়নের পথ বন্ধ করতে ইরানের তেল বিক্রির সমস্ত আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ও সুযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। পাশাপাশি ইরান সরকারকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমর্থনকারী যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রাখার বিষয়েও ওয়াশিংটন ফের কড়া সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে।
নিষেধাজ্ঞার মুখে ভারতীয় দম্পতি
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার এই তালিকায় বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ভারতের চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা সুনীল কুমার শর্মা এবং তার স্ত্রী জাসপ্রীতি প্রীতি শহীদ। এছাড়া এই দম্পতির মালিকানাধীন বা পরিচালিত দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আরও দুই ভারতীয় নাগরিক এবং শর্মার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ভিন্ন নয়টি পৃথক প্রতিষ্ঠানকেও এই কালোতালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সামুদ্রিক প্রতারণার এক অভিনব পন্থার মাধ্যমে ইরানি পেট্রোলিয়াম বহনকারী নিষিদ্ধ জাহাজগুলোকে মিথ্যা পতাকা ও ভুয়া সনদ প্রদান করে আসছিলেন। এই জাহাজগুলোর মধ্যে এমন জলযানও রয়েছে, যেগুলো সরাসরি ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিদের পক্ষে পরিচালিত হয়ে থাকে।
প্রতারণার অভিনব কৌশল
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ভুয়া পতাকা ও জাল সামুদ্রিক সার্টিফিকেশন ব্যবহার করার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত জাহাজগুলো যেকোনো আন্তর্জাতিক সুরক্ষা এবং পরিবেশগত কঠোর প্রবিধান এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়। এমনকি এই জাহাজগুলোর কোনো আইনি ক্ষতিপূরণ বা বীমা কভারেজও থাকে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক কিংবা আঞ্চলিক জলসীমায় এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জাহাজ চলাচল করার সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত সুনীল শর্মা ও জাসপ্রীতি শহীদ অত্যন্ত সুকৌশলে গায়ানা, এসোয়াতিনি এবং লাওসের মতো বিভিন্ন দেশের বৈধ সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করার মিথ্যা দাবি করে ভুয়া পতাকা ও সনদ ইস্যু করতেন। শর্মার এই অবৈধ নেটওয়ার্ক বিভিন্ন ডোমেইন কিনে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করেছিল, যা দেখতে সম্পূর্ণ সরকারি বা অনুমোদিত মনে হতো। এসব সাইটের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষে ফ্ল্যাগিং, সমুদ্র নিরাপত্তার প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং জাহাজের শ্রেণীবিভাগের মতো সেবা দেওয়ার মিথ্যা দাবি করা হতো।


