মাথাব্যথা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ সমস্যা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি পানিশূন্যতা, স্ট্রেস বা ঘুমের অভাব থেকে হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কমেও যায়। কিন্তু অনেক সময় মাথাব্যথাই হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন টিউমারের মতো গুরুতর অসুস্থতার প্রথম সতর্ক বার্তা। সম্প্রতি এক মার্কিন নিউরোসার্জন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল একটি পোস্টে ব্যাখ্যা করেছেন কখন মাথাব্যথা বিপদের ইঙ্গিত দেয় এবং কোন লক্ষণ দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
নিউরোসার্জনটি জানান, সাধারণ মাথাব্যথা নিয়ে দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই, তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ বিপদজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে। তার মতে, দুটি সতর্ক সংকেত কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়। এগুলো হলো:
১. হঠাৎ তীব্র ‘থান্ডারক্ল্যাপ’ মাথাব্যথা
২. স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা
থান্ডারক্ল্যাপ মাথাব্যথা এমন এক ধরনের ব্যথা, যা বজ্রপাতের মতো হঠাৎ প্রবল শক্তি নিয়ে আঘাত হানে। এই ব্যথা কখনো কখনো মস্তিষ্কে রক্তনালির ফেটে যাওয়া বা মারাত্মক রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা না পেলে এটি দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা, কোমা বা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বেশিরভাগ মাথাব্যথা ক্ষতিকর নয়, তবে যদি ব্যথা—
১. ঘুম থেকে উঠেই বাড়ে
২. সাধারণ ব্যথানাশকে না কমে
৩. বমি ভাব, ঝাপসা দৃষ্টি বা দুর্বলতার সঙ্গে আসে
৪. ধীরে ধীরে ক্রমেই তীব্র হতে থাকে
তাহলে সেটি ব্রেন টিউমারের ইঙ্গিত হতে পারে। নিয়মিত মাথাব্যথার ধরন হঠাৎ বদলে গেলে বা নতুন ধরনের ব্যথা দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
গলার ম্যানিপুলেশন ঝুঁকি: নিউরোসার্জন আরও সতর্ক করেছেন ফোর্সফুল নেক ম্যানিপুলেশন বা গলার ম্যানিপুলেশন নিয়ে। ব্যথা উপশমের জন্য অনেক সময় ‘কাইরোপ্রাক্টর’ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তিনি জানান, জোরে বা শক্তভাবে গলা ঘোরানোর সময় অনেক বিপদ হতে পারে। নেক ম্যানিপুলেশনে ভার্টিব্রাল আর্টারি নামের রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে যা মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ব্রেইনস্টেমের অক্সিজেন সরবরাহ করে। রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া গুরুতর স্ট্রোক বা জীবন সংকটজনক অবস্থা তৈরি করতে পারেন।
মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে ঘুমের গুরুত্ব
নিউরোসার্জন জোর দিয়ে বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি হলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মেজাজের সমস্যা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ৭–৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
মাথাব্যথা সাধারণ সমস্যা হলেও এর ধরন, তীব্রতা এবং সময়কাল যদি হঠাৎ বদলে যায় তাহলে এটিকে হালকাভাবে নেয়া উচিত নয়। নিউরোসার্জনের বার্তা স্পষ্ট অস্বাভাবিক, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বমি ভাব, চোখে ঝাপসা দেখা, বিভ্রান্তি বা শরীরের দুর্বলতা মাথাব্যথার সঙ্গে যুক্ত হলে এটি জরুরি সতর্ক সংকেত হতে পারে।
অতএব, মাথাব্যথা হলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই তবে শরীরে যেসব লক্ষণ দেখা দিবে সে বিষয়ে সচেতন থাকিক এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

