...|...|...

বিশ্ব

তুরস্কের চারপাশে অদৃশ্য নিরাপত্তা বলয়: লক্ষ্য কি ইসরায়েল?

যোবায়ের আহমদ
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, রাত ৮:৩৬ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:০১
Shares
তুরস্কের চারপাশে অদৃশ্য নিরাপত্তা বলয়: লক্ষ্য কি ইসরায়েল?

ছবি: এআই জেনারেটেড

সিরিয়ার আকাশে ইসরায়েলি হামলা, আঙ্কারার কড়া প্রতিক্রিয়া, আর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের একের পর এক হুঁশিয়ারি- তুরস্ক আর ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এখন আর নিছক কূটনৈতিক বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। এই উত্তাপের মধ্যেই নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে তুরস্কের বছরজুড়ে গড়ে তোলা বিশাল সামরিক নেটওয়ার্ক- লিবিয়ার সামুদ্রিক চুক্তি, কাতারের ঘাঁটি, সোমালিয়ার সেনা উপস্থিতি, আজারবাইজান-পাকিস্তানের সঙ্গে গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক, আর নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ-ড্রোন-যুদ্ধবিমান তৈরির হিড়িক। প্রশ্ন একটাই- আঙ্কারা কি সত্যিই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, নাকি যুদ্ধ ঠেকানোর?

একটা পিস্তলের গল্প দিয়েই শুরু করা যাক। আপনার হাতে অস্ত্র আছে। প্রতিপক্ষ সেটা জানে। আপনি গুলি করেননি, তবু প্রতিপক্ষ সমীহ করে চলে। কারণ সে জানে, দরকার পড়লে আপনি পাল্টা জবাব দিতে পারবেন। কিন্তু প্রতিপক্ষও যদি নিজের অস্ত্র বের করে ফেলে? তখনই হিসাব বদলে যায়। কে শক্তিশালী, কে দুর্বল- সেটাই ঠিক করে দেয় পরের চাল।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর নাম ‘ডিটারেন্স’- যুদ্ধ না করেও যুদ্ধ ঠেকিয়ে রাখার সক্ষমতা। তুরস্ক আর ইসরায়েলের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনা বুঝতে হলে এই সূত্রটাই মাথায় রাখা দরকার।

রণহুংকার এখন আর নিছক কথার লড়াই নয়

গত কয়েক দিনে সিরিয়াকে ঘিরে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি উত্তর সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল। তুরস্কের সীমান্ত থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরের এই ঘাঁটিতে তুর্কি সেনাদের অবস্থানের প্রস্তুতি চলছিল বলে দাবি করে তেল আবিব। তবে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সরাসরি এই দাবি নাকচ করে দেয়, জানায় হামলার আগে বা সময়ে ওই ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধিদল ছিলই না।

এই হামলার পরপরই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সরাসরি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে নিশানা করে মন্তব্য করেন, এরদোয়ান তুরস্ককে সিরিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়ে দেন, দক্ষিণমুখী কোনো তুর্কি সামরিক উপস্থিতি তারা সহ্য করবেন না।

পাল্টা জবাবে তুরস্কও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানায়। আন্তর্জাতিক মহলকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায় আঙ্কারা।

এটাই প্রথম নয়। এর আগে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের পর ইসরায়েল হয়তো নতুন শত্রু খুঁজছে, আর সেই তালিকায় তুরস্কও থাকতে পারে। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানও একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে তুরস্ক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

তবে বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ মনে করছে, সরাসরি যুদ্ধ এখনো কারো এজেন্ডায় নেই। ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তুরস্ককে এখনো ‘শত্রু রাষ্ট্র’ নয়, বরং ‘প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র’ হিসেবেই দেখছেন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে বদলে যেতে পারে।

ঠিক এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তুরস্কের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সামরিক অবকাঠামো আর বিদেশি মিত্রতার জাল।

যুদ্ধজাহাজ, মানচিত্র আর ভূরাজনৈতিক অবস্থান

আঙ্কারার শিপইয়ার্ডগুলোতে এখন দিন-রাত ব্যস্ততা। একের পর এক যুদ্ধজাহাজ তৈরি হচ্ছে- শুধু নিজের নৌবাহিনীর জন্য নয়, বিদেশি ক্রেতাদের জন্যও। তুরস্ক এখন আর শুধু অস্ত্র কিনতে চায় না, সে অস্ত্র বানাতে চায়, প্রযুক্তি বানাতে চায়, আর সেই প্রযুক্তি বিক্রি করতে চায় গোটা বিশ্বে। ড্রোন থেকে যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র থেকে যুদ্ধবিমান- সবকিছুর লক্ষ্য একটাই। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলের এক নৌপ্রযুক্তি প্রদর্শনীতে দেখা গেছে মানুষবিহীন নৌযানও।

আর এই সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থান। এক পাশে কৃষ্ণসাগর, আরেক পাশে এজিয়ান আর ভূমধ্যসাগর। দক্ষিণে সিরিয়া-ইরাক, পূর্বে ইরান-আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, পশ্চিমে গ্রিস আর বলকান। মাঝখানে বসফরাস আর দার্দানেলিস প্রণালী- এশিয়া আর ইউরোপের সংযোগস্থল।

এই ভূগোলের কারণেই তুরস্কের নিরাপত্তা কখনো শুধু স্থলসীমায় আটকে থাকতে পারে না। সমুদ্র, বাণিজ্য রুট, জ্বালানি পরিবহন- সবই এই হিসাবের ভেতরে।

তুরস্কের সীমানার বাইরে তাকালেই বোঝা যায়, কৌশলটা কতটা বিস্তৃত। কাতারে তুরস্কের সেনা আছে। সোমালিয়ায় আছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আর ঘাঁটি, যার অবস্থান লোহিত সাগর আর এডেন উপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় গুরুত্ব বহুগুণ বেশি। লিবিয়ায় আছে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা, সঙ্গে আছে একটি সামুদ্রিক সীমা চুক্তি, যা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের দাবিকে আইনি ভিত্তি দিয়েছে।

নাগোরনো-কারাবাখ যুদ্ধের পর আজারবাইজানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে, মূলত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি আর সামরিক সহযোগিতার সূত্রে। অন্যদিকে পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তানের সঙ্গেও তুরস্কের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে।

এই দেশগুলোকে একসাথে মানচিত্রে বসালে একটা প্যাটার্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে- তুরস্কের প্রভাব আর নিজের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। কৃষ্ণসাগর থেকে ককেশাস, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকার হর্ন- সব জায়গায় তার উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।

পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও ইউরোপের ফ্রন্ট

এজিয়ান সাগর নিয়ে গ্রিস-তুরস্ক বিরোধ নতুন কিছু নয়। সাইপ্রাস সমস্যাও পুরনো। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাসের সম্ভাবনা এই বিরোধে নতুন করে জ্বালানি দিয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েল, গ্রিস আর সাইপ্রাসের জ্বালানি সহযোগিতার কারণে। এখানে কূটনীতি আর সামরিক শক্তি পাশাপাশি চলে- এক হাতে আলোচনার টেবিল, আরেক হাতে যুদ্ধজাহাজ।

তুরস্কের কৌশল অবশ্য কেবল দক্ষিণ-পূর্বমুখী নয়। বলকান অঞ্চলে আলবেনিয়া, কসোভো, বসনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। ইউক্রেনের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তিতে সহযোগিতাও আছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অটোমান আমলে বলকান, আনাতোলিয়া, কৃষ্ণসাগর আর পূর্ব ভূমধ্যসাগর একই সূত্রে গাঁথা ছিল। আজকের তুরস্ক অবশ্যই অটোমান সাম্রাজ্য নয়, তবে তুরস্ক যখন একসঙ্গে এতগুলো ফ্রন্টে সক্রিয় হয়, পুরনো ভূগোলের কথা না মনে করে উপায় থাকে না।

তুরস্কের সবচেয়ে বড় বদল এসেছে প্রতিরক্ষা শিল্পে। এক সময় বিদেশি অস্ত্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল ছিল দেশটি। এখন নিজেই বানাচ্ছে ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার, যুদ্ধবিমান। ‘KAAN’ প্রকল্প এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান বানানো মানে শুধু একটা বিমান বানানো নয়- ইঞ্জিন, রাডার, সেন্সর, সফটওয়্যার, পুরো একটা বাস্তুতন্ত্র বানানো। যে দেশ এই পুরো ব্যবস্থা নিজের হাতে রাখতে পারে, তার কৌশলগত স্বাধীনতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

তাহলে কি লক্ষ্য সত্যিই ইসরায়েল?

সাম্প্রতিক উত্তেজনা দেখে মনে হতে পারে, তুরস্কের এই বিশাল প্রস্তুতির লক্ষ্য শুধুই ইসরায়েল। বাস্তবতা কিছুটা জটিল। সিরিয়া, গাজা, ইরান নিয়ে ইসরায়েলের পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে তুরস্কের হিসাবকে প্রভাবিত করছে, আর সাম্প্রতিক বাগযুদ্ধ সেই প্রভাবকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে গ্রিস, রাশিয়া, সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, কৃষ্ণসাগর, জ্বালানি নিরাপত্তা- এসবও তুরস্কের কৌশলগত হিসাবে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

তুরস্কের প্রস্তুতিকে শুধু ‘ইসরায়েলবিরোধী’ বলে দাগিয়ে দিলে পুরো ছবিটাই ছোট হয়ে যায়। বরং এটাকে দেখা উচিত এমন এক বহুমুখী কৌশল হিসেবে, যেখানে ইসরায়েল একটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু একমাত্র নয়, এমন এক ফ্যাক্টর।

কূটনীতি আর অস্ত্র, দুটোই একসাথে চলে

শুরুর পিস্তলের গল্পে আবার ফিরে আসা যাক। অস্ত্র বের করেননি, কিন্তু প্রতিপক্ষ জানে আপনার কাছে অস্ত্র আছে- এটাই ডিটারেন্স। তুরস্ক সম্ভবত এমন একটা অবস্থান তৈরি করতে চাইছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে কেউ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বহুবার ভাববে। নৌবাহিনী কতটা শক্তিশালী, ড্রোন কতটা কার্যকর, মিত্র কারা, সামরিক ঘাঁটি কোথায় কোথায়- এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই আসলে একটা রাষ্ট্রের প্রকৃত প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক করে দেয়।

আর এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার- কূটনীতি আর সামরিক প্রস্তুতি একে অপরের বিপরীত নয়। একটা দেশ একই সময়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারে, আবার নিজের শক্তিও বাড়াতে পারে। বরং শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা কূটনৈতিক দর-কষাকষির ক্ষমতাকেই বাড়িয়ে দেয়। তুরস্কও ঠিক এই পথেই হাঁটছে- এক হাতে কড়া বিবৃতি, আরেক হাতে প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণ।

আগামী কয়েক মাস আর বছর তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের জন্য নির্ণায়ক হতে যাচ্ছে। সিরিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনা যেভাবে দ্রুত বাগযুদ্ধ থেকে সরাসরি হুমকির পর্যায়ে গড়িয়েছে, তা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

একই সঙ্গে নিজস্ব যুদ্ধবিমান, নতুন যুদ্ধজাহাজ, মানুষবিহীন প্রযুক্তি, ড্রোন- সব প্রকল্প পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছালে তুরস্কের অবস্থান আরও মজবুত হবে। কাতার, সোমালিয়া, লিবিয়া, আজারবাইজান, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে আঞ্চলিক প্রভাবও বাড়বে।

তবে এর একটা ঝুঁকির দিকও আছে। শক্তি বাড়লে প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের উদ্বেগও বাড়ে, আর সেখান থেকেই জন্ম নিতে পারে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বা সরাসরি সংঘাত। শক্তি যেমন ডিটারেন্স তৈরি করে, ভুল হিসাব তেমনি উত্তেজনাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তুরস্কের এই প্রস্তুতি একদিনের ঘটনা নয়, আর সাম্প্রতিক উত্তেজনাও হঠাৎ করে আকাশ থেকে পড়েনি। লিবিয়ার চুক্তি, কাতারের ঘাঁটি, সোমালিয়ার উপস্থিতি, আজারবাইজান-পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক, নিজস্ব যুদ্ধজাহাজ, আর KAAN-এর মতো প্রকল্প—আলাদা আলাদা দেখলে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু গত এক দশক ধরে এগুলো পাশাপাশি রাখলেই একটা স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে, আর সিরিয়া নিয়ে সাম্প্রতিক রণহুংকার সেই চিত্রকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

তুরস্ক নিজের চারপাশে একটা নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলছে- শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প, আধুনিক নৌ ও বিমান সক্ষমতা, মানুষবিহীন প্রযুক্তি, সামরিক মিত্রতা আর বিস্তৃত কূটনীতি, সবকিছু মিলিয়ে।

এর লক্ষ্য যুদ্ধ শুরু করা, এমন সিদ্ধান্তে দ্রুত পৌঁছানো সহজ। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত অন্যরকম। তুরস্ক এমন শক্তি বানাতে চাইছে, যাতে কেউ তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে দুইবার ভাবে। এটাই ডিটারেন্স- অস্ত্র ব্যবহার না করেই অস্ত্রের উপস্থিতিকে কৌশলগত শক্তিতে বদলে ফেলা।

তবে ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের বর্তমান উত্তাপ মনে করিয়ে দেয়, ডিটারেন্সের হিসাব সবসময় নিখুঁত থাকে না। বাগযুদ্ধ যত বাড়বে, ভুল বোঝাবুঝি বা হঠাৎ কোনো সংঘর্ষের ঝুঁকিও তত বাড়বে।

আজকের বিশ্বে তাই প্রশ্নটা এই নয়- কার হাতে কত অস্ত্র। আসল প্রশ্ন হলো- কার অস্ত্র কতটা বিশ্বাসযোগ্য? কার মিত্র কতটা নির্ভরযোগ্য? এবং কার প্রতিরক্ষা শিল্প কতটা স্বাধীন?

আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- যুদ্ধ না করেও কে প্রতিপক্ষকে পিছু হটাতে বাধ্য করার মতো শক্তি অর্জন করেছে? তুরস্কের বর্তমান সামরিক আর কূটনৈতিক প্রস্তুতি, আর ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বুঝতে হলে, এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই খুঁজতে হবে।

নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, প্রতিক্রিয়া প্রভৃতিতে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। টাইমস টুডের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে নিবন্ধ ও সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত, রাজনৈতিক, আইনগতসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়ভার লেখকের, টাইমস টুডে কর্তৃপক্ষের নয়।