...|...|...

সারাদেশ

তিন কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৫
Shares
তিন কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

তিন কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন। ছবি: টাইমস টুডে

মাদারীপুরের হিমাগারে ৩ কোটি টাকার আলু পচে নষ্ট হওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত তদন্ত কমিটি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার একটি কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষিত প্রায় ২০ হাজার বস্তা আলু নষ্ট হয়ে গেছে। প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি হিসাবে এসব আলুর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার মণ। নষ্ট হয়ে যাওয়া আলুর মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

তবে বাজারে বেশি মুনাফার আশায় মীর হাবিবুর রহমান তার মালিকানাধীন মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ১৫ হাজার বস্তা আলু মজুত করেন। ২০২৫ সালের মার্চে কোল্ড স্টোরেজে রাখা এসব আলু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও কাঙ্ক্ষিত বাজারমূল্য না পাওয়ায় সংরক্ষণ করা হয়। 

দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় বস্তায় থাকা আলুর গুণগত মান নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পচে যাওয়া আলু নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ শুরু করেছে কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, দীর্ঘদিন আলু মজুত থাকায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহে প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করছেন আলুর আড়তদাররা। চাহিদা মেটাতে অন্য জেলা থেকে আলু সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। এতে পরিবহণসহ আলু সংগ্রহের খরচও বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

আলু দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর টেম্পারেচার নষ্ট হয়ে গেছে। খোলা জায়গায় ফেললে জনদুর্ভোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই আলু এখন বিনামূল্যে খামারি ও কৃষকদের বিতরণ করা হচ্ছে।

আলু নষ্ট হওয়ার কারণ সম্পর্কে কোল্ড স্টোরেজের মালিক মীর হাবিবুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি এখনো নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি। তবে প্রাথমিকভাবে কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হতে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ লোকজন এনে কোল্ড স্টোরেজ পরীক্ষা করানো হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আলু নষ্ট হওয়ার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অবস্থিত মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, ২০২৫ সালের মার্চে মালিকের আলু সেখানে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন হিমাগারে থাকার কারণে আলুগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এসব আলু বিনা মূল্যে গরুর খাবার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নষ্ট হয়ে যাওয়া আলুর পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার বস্তা। প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি করে ধরলে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৩০ হাজার মণ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, এসব আলুর বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাসির জানান, আলু সংরক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো মৌসুমের পর বাজারে সরবরাহ করে ভালো দাম পাওয়া। তবে দীর্ঘদিন আলু হিমাগারে রেখে দিলে সংরক্ষণজনিত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। নির্দিষ্ট সময়ে বাজারে সরবরাহ করা না হলে একপর্যায়ে আলুর মান কমতে থাকে। এতে ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাতেও প্রভাব পড়ে।

অপর স্থানীয় আলু ব্যবসায়ী তাসুদ তালুকদার বলেন, আলুর মৌসুমে বাজারে দাম কম থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পরে দাম বাড়ার আশায় হিমাগারে আলু রাখেন। দাম বাড়লে লাভ হয়। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে সেই আলু বিক্রি না করে পড়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত পচে গেলে লাভের বদলে পুরো বিনিয়োগই ক্ষতির মুখে পড়ে।

মাদারীপুরের কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ী বলেন, আলু সংরক্ষণের আগে বাজার পরিস্থিতি ও সংরক্ষণের সময়সীমা বিবেচনা করা জরুরি। দীর্ঘ সময় হিমাগারে আলু রেখে দিলে সংরক্ষণ খরচ বাড়ার পাশাপাশি পচন ও ওজন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আলু ব্যবসার সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, আলুর দাম বাড়ার আশায় দীর্ঘদিন মজুত করে রাখার ক্ষেত্রে বাজারের চাহিদা, সরবরাহ ও সংরক্ষণক্ষমতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে বেশি দামের আশায় রাখা আলুই একসময় বড় ধরনের লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মাদারীপুরের এই ঘটনা সংরক্ষণ করা কৃষিপণ্যের সময়মতো বাজারজাতকরণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে বাজারে সরবরাহের সময় নির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়া দরকার। অন্যথায় লাভের আশায় করা বিনিয়োগ পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মাদারীপুরে জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তার বলেন, আলু পছনের ঘটনায় আমরা উদ্বিঘ্ন। আমরা দ্রুত এর তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।