জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের হাতে ‘আলাদিনের চেরাগ’ নেই যে কয়েক মাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকারকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অর্থনীতির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের আগে সরকারের হাতে থাকা সময়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। কয়েক মাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের হাতে তো আলাদিনের চেরাগ নেই। তিন, চার বা পাঁচ মাসের মধ্যে চেরাগে ঘষা দিলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না।’
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার যাবে এবং আরেকটি সরকার আসবে এটুকু ধৈর্য রাজনৈতিক দলগুলোর থাকতে হবে। সরকারের বিরুদ্ধে দ্রুত আন্দোলনে না গিয়ে নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি একটি গাছের উদাহরণ দেন। আবদুস সালাম বলেন, একটি গাছ লাগানোর পর সেটিকে বড় হতে সময় দিতে হয়, পানি দিতে হয় এবং ফল আসা পর্যন্ত পরিচর্যা করতে হয়। একইভাবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সময় ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া থাকতেই পারে। তবে সবার আগে জনগণের অভাব-অভিযোগের সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে। জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে তাদের জীবনযাত্রার সমস্যাগুলো সমাধান করাই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘এখন সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। পাঁচ বছর পর আবার নির্বাচন হবে। তখন জনগণ যাকে ভোট দেবে, সেই সরকারই দায়িত্ব নেবে।’
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি পারস্পরিক বিরোধ এড়িয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে দেশের অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



