বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক, নিরাপদ, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশবান্ধব জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, সামুদ্রিক খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু নীতি ও বিধিবিধান প্রণয়ন করলেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ এবং পরিচালনাগত দক্ষতাও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক খাতকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা, পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন ব্যবস্থা চালু, দক্ষ নাবিক তৈরি এবং কার্যকর সামুদ্রিক সুশাসনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ২০২৬ ও ২০২৭ সালের বিশ্ব নৌ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘From Policy to Practice: Powering Maritime Excellence’। এর মূল লক্ষ্য হলো সামুদ্রিক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক বিধিবিধানকে বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ, দক্ষ ও পরিবেশগতভাবে টেকসই নৌপরিবহন নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিপাদ্য বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতের জাতীয় লক্ষ্য ও অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অবস্থান এবং সামুদ্রিক সম্পদের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নীতির পাশাপাশি বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই পদ্ধতিতে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং উপকূলীয় শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে নীল অর্থনীতি সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহারে জাতীয় ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং সামুদ্রিক খাতের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং দেশের বিস্তৃত নৌপথের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা পরিবহন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সামুদ্রিক সীমানা, নৌপরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ধীরে ধীরে শক্তিশালী করেছে। একই সাথে দেশটি আইএমওর ২৯টি সামুদ্রিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে।
নৌপরিবহন খাতকে আরও পরিবেশবান্ধব করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী নৌযানের কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি এ খাতে সবুজ রূপান্তর দ্রুত করার কথা জানান তিনি।
২০২৬ সালকে ‘বাস্তবায়নের বছর’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান চারটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সবুজ নৌপরিবহন সম্প্রসারণ ও বিশ্বমানের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা তৈরি, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল লজিস্টিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বন্দর আধুনিকায়ন, হাইড্রোগ্রাফি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার মাধ্যমে সামুদ্রিক পরিবেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
এ ছাড়া নাবিকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামুদ্রিক খাতে উৎকর্ষ শুধু নীতিমালা বা পরিকল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এর প্রতিফলন থাকতে হবে প্রতিদিনের কার্যক্রমে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজ মালিক, নাবিক, সামুদ্রিক পেশাজীবী এবং পরিবেশবিষয়ক সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক মানদণ্ড ও জাতীয় অগ্রাধিকারকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী নীল অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি নিরাপদ, সবুজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।


