...|...|...

ক্যাম্পাস

ঢাবির হলে প্রভোস্ট কর্তৃক হেনস্তার শিকার সেই শিক্ষার্থীকে উল্টো শোকজ

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:৪৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:২৭
Shares
ঢাবির হলে প্রভোস্ট কর্তৃক হেনস্তার শিকার সেই শিক্ষার্থীকে উল্টো শোকজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলে প্রভোস্ট কর্তৃক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগের ঘটনায় বিচার দাবিতে প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করার অভিযোগে হল ছাত্র সংসদের ভিপিসহ তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শোকজ পাওয়া তিনজনের মধ্যে ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও রয়েছেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে ফজলুল হক মুসলিম হল ছাত্র সংসদের ভিপি খন্দকার মোহা. আবু নাঈমসহ সংশ্লিষ্টদের এক কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 

নোটিশে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২০ আগস্ট হল অফিসের মাধ্যমে অবগত হওয়া যায়, আবু নাঈম প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক রীতি অনুযায়ী প্রশাসনের অনুমোদন বা নির্দেশনা ছাড়া কোনো প্রশাসনিক ভবন, অফিস বা কক্ষ তালাবদ্ধ, অবরুদ্ধ কিংবা সিলগালা করার এখতিয়ার কোনো ব্যক্তির নেই বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান পরিপন্থী ও প্রশাসনিকভাবে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আবু নাঈমকে তার বক্তব্য লিখিতভাবে জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

এদিকে শোকজের বিষয়টি জানিয়ে আবু নাঈম বলেন, প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবি এবং তার কক্ষ তালাবদ্ধ করার ঘটনায় তাকে শোকজ করা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, যেই প্রভোস্ট দেড় ঘণ্টা ধরে আমার ভাইয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে, সেই প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করায় এবং তার রুম তালাবদ্ধ করায় ভিক্টিম মো. ইব্রাহিমসহ আমাকে ও আমাদের সমাজসেবা সম্পাদক তারিকুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোকজ করেছে।

আবু নাঈম আরও বলেন, স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন শিক্ষকের বিচার করতে পারে না, সেই প্রশাসন আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মুখ বন্ধ করতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, বল প্রয়োগ করে বা চাপ প্রয়োগ করে আমাকে আমার ভাইয়ের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা থেকে বিরত রাখা যাবে না। আমি আবু নাঈম, ভিপি হিসেবে আমার ভাইয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে থামব না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ ইব্রাহিম, কাল কে?

উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কক্ষে ডেকে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে হল সংসদের নেতাদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ ও তার পদত্যাগ দাবি করেন।

এরপর বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ঘটনা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় প্রভোস্টের কক্ষ তালাবদ্ধ ও সিলগালা করার অভিযোগে এবার হল সংসদের ভিপি আবু নাঈম, সমাজসেবা সম্পাদক তারিকুল ইসলাম এবং শিক্ষকের হেনস্তার শিকার শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহীমকে শোকজ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন।