শৈশবে আর দশটা শিশুর মতো বইয়ের পাতায় গাড়ি আর বিমানের ছবি দেখে আঁকাআঁকির প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় ব্যাংকনোটে জালের মতো বোনা সূক্ষ্ম রেখার প্রতিকৃতি দেখে গভীর কৌতূহলে পড়েন তিনি।
সেই কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া অনুশীলন আজ রূপ নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী শিল্পচর্চায়। এখন কলম, পেন্সিল ও রঙের নিখুঁত ব্যবহারে কাগজে ফুটিয়ে তোলেন নান্দনিক ও নিরাপত্তাসংবলিত ব্যাংকনোটের নকশা।
বলছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ সাদের কথা। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সন্তান সাদ বর্তমানে ঢাবির হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলে থাকেন।
চারুকলায় ভর্তি হওয়ার পর ব্যাংকনোটের নকশা নিয়ে সাদের আগ্রহ প্রাতিষ্ঠানিক মাত্রা পায়। বাংলাদেশে প্রচলিত নোটের পাশাপাশি নিজস্ব ভাবনায় জয়নুল আবেদীন, তাজউদ্দীন আহমেদ, কাজী নজরুল ইসলাম ও খালেদা জিয়াসহ একাধিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি সংবলিত ব্যাংকনোটের মডেল এঁকেছেন তিনি।
ব্যাংকনোটের নকশা তৈরি সাধারণ চিত্রাঙ্কনের চেয়ে বেশ জটিল। এতে প্রতিকৃতির পাশাপাশি জ্যামিতিক রেখা, অক্ষরের বিন্যাস ও ক্যালিগ্রাফির সূক্ষ্ম সমন্বয় প্রয়োজন হয়।
সাদ জানান, আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে তিনি জাপানি সাকুরা পিগমা, রোট্রিং ও নানা ধরনের ফাউন্টেন পেনের পাশাপাশি হাঁসের পালকও ব্যবহার করেছেন। দেশের প্রখ্যাত নকশাকার মুছলিম মিয়া ও কাজী গোলাম মোস্তফার পাশাপাশি বিদেশি খ্যাতিমান ডিজাইনারদের কাজ অনুসরণ করেন তিনি।
শুধু নান্দনিক সৌন্দর্য নয়, ব্যাংকনোটের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর ভাবনা রয়েছে সাদের। দেশে জাল টাকার বিস্তার রোধে উচ্চ নিরাপত্তাবিশিষ্ট পলিমার নোট চালুর পক্ষে মত দিয়ে বর্তমানে পলিমার নোটের নকশা নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

