সৃষ্ট লঘু চাপে টানা মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও অতিবৃষ্টির কারণে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন শঙ্কায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
উপজেলার পশ্চিম কাঠালতলী ও মধ্য বোয়ালখালী এলাকায় দেখা গেছে, পাহাড়ের পাদদেশ ঘেঁষে সারিবদ্ধভাবে নির্মিত হয়েছে অসংখ্য বসতঘর। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এতে সম্ভাব্য পাহাড়ধস নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা এলেই পাহাড়ধসের আতঙ্ক ফিরে আসে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারের পক্ষে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব হয় না। তাই বৃষ্টিপাতের সাথে সাথে বাড়ছে দুশ্চিন্তাও।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা পংকজ বড়ুয়া বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট দফতর প্রস্তুত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ‘সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাসের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়িতে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অতীতে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।


