প্রায় দুই বছর ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, কর্মচারী এবং সেবা প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় দাফতরিক সেবা পেতে নিয়মিত ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। এমন চরম দূরাবস্থা পার্বত্যজেলা খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলায়।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু কাউসার ২০২৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অবসর গ্রহণের পর থেকে পদটিতে নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান করেননি। এরপর দায়িত্বের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কয়েকজন কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ীভাবে কাউকে পদায়ন করা হয়নি।
শুধু কর্মকর্তা সংকটই নয়, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতিও দীর্ঘদিনের। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক বদলি ও পদোন্নতিসংক্রান্ত কার্যক্রম, এমপিও-সংক্রান্ত দাফতরিক কাজ, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রণয়ন ও প্রেরণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রামগড় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মচারি জয়নাল আবেদীন জানান, আগের কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর প্রথমে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসলেম উদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে রফিকুল ইসলাম প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান। বর্তমানে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র সিকদার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ দফতরে কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি জেলা পর্যায়ের সভাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই একজন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদায়ন করা হবে।’

