অফিসে ঢুকতেই মন খারাপ হয়ে যায়, এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। কারণটা প্রায়ই একজনই-টিমের সেই একজন সহকর্মী, যার অহংকারের চোটে বাকি সবার কাজের এনার্জিই যেন ফুরিয়ে যায়।
কথায় কথায় নিজের গুরুত্ব জাহির করা, অন্যের কথা কানেই না নেওয়া, ছোটখাটো বিষয়েও তর্ক জুড়ে দেওয়া, সব সময় নিজের দিকে সবার মনোযোগ টেনে রাখার চেষ্টা-এসব স্বভাব একটা কর্মক্ষেত্রের পরিবেশকেই বিষাক্ত করে তুলতে পারে।
সমস্যা হলো, এমন মানুষদের সরাসরি মুখের ওপর জবাব দেওয়া বা তাদের সাথে ঝগড়ায় জড়ানো কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এতে অশান্তি বাড়ে বটে, কিন্তু সমাধান মেলে না। তাহলে উপায় কী?
মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে যুগে যুগে যে পর্যবেক্ষণ জমা হয়েছে, তা থেকেই উঠে আসে কিছু সহজ অথচ কার্যকর কৌশল। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ঝগড়া বা কটু কথা ছাড়াই কীভাবে একজন অহংকারী সহকর্মীকে ঠান্ডা করে দেওয়া যায় এমন তিনটি উপায়:
১. মনোযোগ দেয়া বন্ধ করুন
অহংকারী মানুষের আসল ‘খাদ্য’ আসলে অন্যদের মনোযোগ। এরা এমন এক ভ্রান্ত বিশ্বাস নিয়ে চলে যে, তাদের প্রতিটা কথা সবাই আগ্রহ নিয়ে শুনবে, তাদের প্রতিটা সিদ্ধান্তে সবাই সায় দেবে। এই মনোযোগটাই তাদের আত্মবিশ্বাসের মূল উৎস।
এই মনোযোগ যদি সরিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে তাদের নিজের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্বের অনুভূতিও আপনাআপনি কমে আসে। খুব সহজ কথায়-তাকে পাত্তা দেওয়া বন্ধ করে দিন। কোনো তর্ক নয়, কোনো প্রতিক্রিয়া নয়, শুধু নিরাসক্ত থাকুন। দেখবেন, সময়ের সাথে সাথে তার সেই তীক্ষ্ণ আচরণ নিজে থেকেই ভোঁতা হয়ে আসছে।
২. এড়িয়ে চলুন বা ইগনোর করুন
শান্ত থাকার পাশাপাশি আরেকটি জোরালো কৌশল হলো সচেতনভাবে এড়িয়ে চলা। মানুষ হিসেবে আমরা সবাই একধরনের স্বীকৃতি চাই-অহংকারী মানুষরাও এর ব্যতিক্রম নয়, বরং তাদের এই চাহিদা আরও তীব্র। যখন তারা বুঝতে পারে যে আপনি তাদের সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করছেন, তখন তাদের ভেতরে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। এই অস্বস্তিই তাদের নিজে থেকে পিছিয়ে যেতে, আচরণ বদলাতে বাধ্য করে।
এখানে মনে রাখার বিষয় হলো-এড়িয়ে চলা মানে অভদ্র আচরণ করা নয়। পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই প্রয়োজনীয় কথোপকথন সারুন, কিন্তু অতিরিক্ত সময় বা আবেগ তাদের পেছনে ব্যয় করবেন না।
৩. দুর্বলতা খুঁজে বের করুন
যদি সত্যিই কাউকে সরাসরি জব্দ করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে প্রথমে ধৈর্য ধরে পর্যবেক্ষণ করুন। কয়েকদিন লক্ষ করুন, কোন বিষয়ে তার জ্ঞান বা দখল আসলে সীমিত। অহংকারী মানুষরা প্রায়ই নিজেদের সবজান্তা হিসেবে জাহির করে, কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি বিষয়ে তাদের সমান দক্ষতা থাকে না।
সেই দুর্বল জায়গা থেকেই এমন একটা প্রশ্ন তুলুন, যার সদুত্তর তার কাছে নেই। প্রকাশ্যে অপমান করার উদ্দেশে নয়-বরং তাকে বুঝিয়ে দিতে যে, তারও সীমাবদ্ধতা আছে। এতে তার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে সূক্ষ্ম একটা ধাক্কা লাগে, আর ধীরে ধীরে সে বুঝতে শেখে যে সব ক্ষেত্রে তার আধিপত্য চলে না।
মনে রাখবেন, অফিসের অহংকারী সহকর্মীকে সামলানো মানে তার সাথে যুদ্ধে নামা নয়-বরং নিজের আচরণে এমন পরিবর্তন আনা, যা তাকে ধীরে ধীরে বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। মনোযোগ কেড়ে নেওয়া, প্রয়োজনে এড়িয়ে চলা আর তার দুর্বলতা ঠান্ডা মাথায় চিহ্নিত করা-এই তিন কৌশলেই লুকিয়ে আছে আসল মাস্টারস্ট্রোক। ঝগড়া ছাড়াই, শান্তভাবেই বদলে দেওয়া যায় পুরো পরিস্থিতি।

