...|...|...

সারাদেশ

কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৯
Shares
কক্সবাজারে সুপেয় পানির সংকট, ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

কক্সবাজারে দিন দিন প্রকট হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট। সমুদ্রতীরবর্তী এই জেলায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবের পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যত্রতত্র নলকূপ স্থাপনের কারণে সংকট আরও বাড়ছে। এর সাথে প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটকের বাড়তি চাপও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় নিরাপদ পানির উৎসের সংখ্যা কম থাকায় অনেক মানুষ বাধ্য হয়ে অগভীর নলকূপের দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর কমে যাওয়া এবং পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান অনেক পানির উৎস থেকেও নিরাপদ পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

কক্সবাজারের প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় সুপেয় পানির জন্য যখন হাহাকার চলছে, তখন জেলার সদর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহে কাজ করছে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সহযোগী সংস্থা হাইসাওয়া।

গত তিন বছরে সংস্থাটি চারটি উপজেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত ৯৩টি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন করেছে। পাশাপাশি ৪০০টি নলকূপ ও ১ হাজার ৫৮৫টি উন্নত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। হাইজিন প্রমোশন কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব এলাকার মানুষের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

একেকটি পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৫০টি পরিবার সুপেয় পানি পাচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার নিরাপদ পানির সংকট কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কক্সবাজারের পানির সংকট মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাও কাজ করছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকেই সুপেয় পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করা জরুরি। পাশাপাশি যত্রতত্র পানির অপচয় বন্ধ করা না গেলে অদূর ভবিষ্যতে কক্সবাজারে পানির সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।