সিরিয়ায় জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় দুই বছর আগে বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম।
মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার সিরিয়া সরকার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১৭৫ সিরিয়ান পাউন্ড নির্ধারণের পর বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। এর মধ্যে রাজধানী দামেস্কের সঙ্গে শিল্পনগরী আলেপ্পোর সংযোগকারী মহাসড়কও ছিল।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সিরিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
সরকার ডিজেলের পাশাপাশি গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম প্রায় ৯ শতাংশ, ৯৫-অকটেন পেট্রোলের দাম ২৮ শতাংশ এবং ৯০-অকটেন পেট্রোলের দাম ২৬ শতাংশ বাড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা মধ্য সিরিয়ার শোধনাগারগুলোর দিকে যাওয়া অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারও আটকে দেন। অনেকে জ্বালানি ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানান।
আলেপ্পোর এক বিক্ষোভকারী ইয়াসের সেলিম বলেন, “আমরা বেতন বৃদ্ধি চাই না। আমরা শুধু ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানির দাম কমাতে চাই।”
আরেক বিক্ষোভকারী বাসাম আল-আলি প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার উদ্দেশে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে সিরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আমদানির ওপর নির্ভরতার কারণে সাময়িকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে দাম পুনর্বিবেচনা করা হবে।
সিরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ইউক্রেনীয় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সিরিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার ‘বানিয়াস’ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকায় সংকট আরও বেড়েছে।
গত ফেব্রুয়ারি থেকে সিরিয়ায় ৯৫-অকটেন পেট্রোলের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।


