কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দুটি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠান দুটির মোট ৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। শূন্য পাসের হার থাকা উভয় প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরাই মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠান দুটি হলো বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে সাতজন এবং জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে দুজন পরীক্ষায় অংশ নেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ।
এর মধ্যে জিনদপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফলাফল নিয়ে দেখা দিয়েছে আরও উদ্বেগজনক চিত্র। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। ওই বছর মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের সবাই অকৃতকার্য হন। চলতি বছরও দুই পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেননি। ফলে টানা দুই বছর প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য থাকল।
শুধু দুটি কলেজই নয়, নবীনগর উপজেলার সামগ্রিক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলও হতাশাজনক। এবার উপজেলার ১ হাজার ৭৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৬৫৮ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১ হাজার ১০৩ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৩৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ১০ জন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলে নবীনগর সরকারি কলেজে ৪২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১৮৩ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজে ১৭২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৫৪ জন। পাসের হার ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশ। সলিমগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে ৩০১ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৭৩ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ ডিগ্রি কলেজে ১৬৬ জনের মধ্যে ৬৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আলীমউদ্দিন জোবেদা কলেজে ৮২ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২১ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।
এ ছাড়া ব্যারিস্টার জাকির আহমেদ কলেজে ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৪৮ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১২৪ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৩৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৩১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বিটঘর দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য কলেজে ১২১ জনের মধ্যে ৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অন্যদিকে, রাবেয়া মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন একজন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৫০ শতাংশ।
এদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিম পরীক্ষায় নবীনগর উপজেলায় ১৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭৬ জন। পাসের হার ৪২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন।
অন্যদিকে, এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষায় উপজেলার ৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩৬ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৮০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনজন।


