টোকিওর ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে প্রথমবার পা রাখার মুহূর্ত থেকেই রিউয়া নিশ্চিত ছিলেন যে জায়গাটি ভুতুড়ে। সেখানে পা রাখতেই এক অদৃশ্য অস্তিত্ব অনুভব করেন তিনি। তবে ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাননি, বরং সেই ‘প্রেতাত্মা’র সঙ্গেই চার বছর ধরে বসবাস করছেন এই জাপানি তরুণী। আর এর মূল কারণ—ভুতুড়ে বা অপ্রীতিকর ইতিহাস থাকা এসব বাড়ির আকাশছোঁয়া ছাড় ও সস্তা ভাড়া।
জাপানে এই ধরনের বাড়িকে বলা হয় ‘জিকো বুক্কেন’ বা ‘কলঙ্কিত সম্পত্তি’। সাধারণত যেসব বাড়িতে খুন, আত্মহত্যা বা একাকী কারও মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, সেগুলোকে এই তালিকায় ফেলা হয়।
২০২১ সালে সরকার নির্দেশ জারি করে যে রিয়েল এস্টেট এজেন্টদের অবশ্যই এসব ঘটনার তথ্য ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে জানাতে হবে। কুসংস্কারের কারণে সাধারণত স্থানীয়রা এসব বাড়ি এড়িয়ে চলেন। ফলে ফ্ল্যাটের মালিকেরা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে এসব সম্পত্তি ভাড়া বা বিক্রি করতে বাধ্য হন।
রিউয়া জানান, সেতাগায়ার অভিজাত এলাকায় তার ২৫ বর্গমিটারের অ্যাপার্টমেন্টটিতে আগের এক ভাড়াটিয়া আত্মহত্যা করেছিলেন। ফলে প্রতি মাসে ৬২ হাজার ইয়েন ভাড়ার জায়গায় তিনি ছাড় পেয়ে দেন মাত্র ৪৫ হাজার ইয়েন।
একইভাবে ডায়ান টিঞ্চার নামের এক আমেরিকান নারী প্রায় অর্ধেক দামে কিনে নেন তিন বেডরুমের একটি বাড়ি, যেখানে আগের বয়স্ক মালিক একাকী মারা গিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়ির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এই ধারণায় পরিবর্তন আসছে। ২০২৫ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এখন সস্তায় পেলে এই ‘জিকো বুক্কেন’ বা কলঙ্কিত বাড়ি ভাড়া নিতে রাজি।
এমনকি এসব সম্পত্তির তথ্য পাওয়ার জন্য ‘ওশিমাল্যান্ড’ নামের একটি জনপ্রিয় ওয়েবসাইটও গড়ে উঠেছে।

