...|...|...

খেলা

৯০ বছরেও বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে, তরুণদের চ্যালেঞ্জ জানালেন জাপানি বৃদ্ধ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৪৯
Shares
৯০ বছরেও বডিবিল্ডিংয়ের মঞ্চে, তরুণদের চ্যালেঞ্জ জানালেন জাপানি বৃদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

বয়স ৯০ বছর। তবু শরীরচর্চা ও বডিবিল্ডিংয়ের প্রতি আগ্রহে এতটুকু ভাটা পড়েনি জাপানের তশিসুকে কানাজাওয়ার। নিজের চেয়ে কয়েক দশক কম বয়সী প্রতিযোগীদের সাথে মঞ্চে পেশি প্রদর্শন করে তিনি দেখাতে চান, বয়স কখনোই শারীরিক সক্ষমতা ও স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হতে পারে না।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) স্পেনের সান্তা সুসান্না শহরে আন্তর্জাতিক ফিটনেস অ্যান্ড বডিবিল্ডিং ফেডারেশনের (আইএফবিবি) আয়োজিত এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন কানাজাওয়া। ৫০ বছর ও তার বেশি বয়সী অ্যাথলেটদের জন্য নির্ধারিত মাস্টার্স বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ৯০ বছর বয়সী এই বডিবিল্ডার।

প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতেও তরুণদের সাথে তাল মিলিয়ে চলেছেন তিনি। দলের অন্য সদস্যদের সাথে শরীর গরম করার ব্যায়াম করেন, শরীরে স্প্রে ট্যান লাগান। এরপর মঞ্চের আলোয় দাঁড়িয়ে প্রদর্শন করেন নিজের পেশি।

কানাজাওয়া বলেন, ‘আমি এমন কিছু করার চেষ্টা করতে পছন্দ করি, যা আগে কেউ করেনি। সবকিছুর চেয়ে বেশি চাই, জীবনের বাকি সময়টুকু বডিবিল্ডিং চালিয়ে যেতে।’

দীর্ঘায়ু ও শারীরিক সক্ষমতার পেছনে নিজের কঠোর খাদ্যাভ্যাসকে বড় কারণ বলে মনে করেন তিনি। কয়েক দশক আগে থেকে অনুসরণ করা নিয়মিত খাবারের রুটিন তাকে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান কানাজাওয়া।

তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি বিষয়, যা নিয়ে আমি গবেষণা করছি এবং আরও জানতে চাই। তবে ৫০ বছর বয়সে পা দেয়ার পর থেকেই পুরোপুরি জাপানি খাবার খেয়ে পেশি গড়ে তুলছি। আমার খাবারের তালিকায় রয়েছে বাদামি চাল, নাত্তো (গাঁজানো সয়াবিনের খাবার) এবং মিসো স্যুপ।’

নিজের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কানাজাওয়া বলেন, ‘এটাই মূলত জাপানিদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের ধরন। আর এর কল্যাণেই ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত আমি কখনো অসুস্থ হইনি।’

এবারের প্রতিযোগিতায় সেরা তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি। তবে তাতে হতাশ নন কানাজাওয়া। বডিবিল্ডিং থেকে অবসর নেওয়ার আগে আরও একবার প্রতিযোগিতার মঞ্চে নামতে চান এই প্রবীণ অ্যাথলেট।

তিনি বলেন, ‘ভাবছি, ৯৩ বছর বয়সে আরেকবার চেষ্টা করব। এরপর সম্ভবত আমাকে অবসর নিতে হবে।’

বয়স বাড়ার সাথে শরীরে বলিরেখা দেখা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন কানাজাওয়া। তার ভাষ্য, ‘বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে অনেক বলিরেখা দেখা দিতে শুরু করে। জাপানে এমন একটি ধারণা রয়েছে যে, বলিরেখা দেখা দিলে দেখতে আর খুব একটা ভালো লাগে না।’

তবে নিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে বয়স্কদের শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে এবং বয়স নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে উৎসাহিত করতে চান তিনি।

কানাজাওয়া বলেন, ‘কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নিলে তা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিক শক্তি ও দৃঢ় সংকল্প গড়ে তুলতে হবে। যা-ই ঘটুক, সেই সংকল্প ধরে রাখতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই, অন্যরাও আমার মতো কঠোর পরিশ্রম করুক। আমার বিশ্বাস, তারা তা করলে বয়স বাড়ার পরও আমার মতো আরও মানুষকে দেখা যাবে। আমি এটাই আশা করি। আমি তাদের জন্য একজন ভালো আদর্শ হতে চাই।’