চীনকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ফুটবলের ফাইনালে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া। পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো এশিয়ান গেমসের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দলের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন স্টোক সিটির ফরোয়ার্ড বে জুন-হো।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন। ম্যাচে শুরুতে গোল হজম করলেও ৩৩ মিনিটে লি ইয়ং জুনের গোলে সমতায় ফেরে কোরিয়া। এরপর ৮২ মিনিটে বে জুন হোর গোলে নিশ্চিত হয় তাদের ২-১ ব্যবধানের জয়।
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে চীন। একপর্যায়ে ওয়াং ইউডংয়ের গোলে এগিয়েও যায় তারা। তবে বেশিক্ষণ সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি চীন। ৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে লি ইয়ং-জুন দক্ষিণ কোরিয়াকে সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে। ৬২ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার ভুলের সুযোগ পেয়েছিল চীন। গোলমুখে পাওয়া সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডিফেন্ডার পেং শিয়াও। তার নিচু শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়।
৭৯ মিনিটে নিজেদের গোলেই বিপদ ডেকে আনতে বসেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত সেই বিপদ কাটিয়ে ওঠে তারা। মাত্র তিন মিনিট পরই এলো জয়সূচক গোল। বাম দিক থেকে ইওম জি-সুংয়ের বাড়ানো ক্রস থেকে বল পেয়ে ৮২ মিনিটে দারুণ ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বে জুন হো।
এই জয়ের ফলে টানা চতুর্থ এশিয়ান গেমসের ফাইনালে উঠল দক্ষিণ কোরিয়া। এর আগে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৩ আসরেও ফাইনালে খেলেছিল তারা। শনিবার টয়োটা স্টেডিয়ামে ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিপক্ষ হবে জাপান ও উজবেকিস্তানের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল।
এশিয়ান গেমসে সোনা জিতলে দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে বাড়তি সুবিধা। দেশটির পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২৮ বছর পর এশিয়ান গেমসের পুরুষ ফুটবলের সেমিফাইনালে ওঠা চীনের বিদায় হলো হতাশায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের ফাইনালেও স্বর্ণ জিততে ব্যর্থ হয়েছিল তারা।


