ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়নে চাঁদা না দেওয়ায় আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী নামের এক যুবদল কর্মীকে অপহরণ করে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফেনী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মধ্যম ধলিয়া গ্রামের জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী এসব অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধলিয়া ইউনিয়নের বালুয়া চৌমুহনী বাজারে তার নিজস্ব ফার্নিচারের দোকান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মারধর করে তার সাথে থাকা এক লাখ ৪২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বালুয়া চৌমুহনীতে আমি ফার্নিচার ব্যবসা করি। ব্যবসার সুবাদে পাশের দোকানদার দেলোয়ার হোসেন টুকুর সাথে আমার লেনদেন ছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর তার সাথে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। ওই দূরত্বকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় সোমবার রাতে ২০-২৫ জন লোক তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে চিন্তারপোল এলাকার একটি জনবিচ্ছিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আমিনুল হকের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেন এবং পকেটে থাকা এক লাখ ৪২ হাজার টাকা নিয়ে নেন।
তার অভিযোগ, পরে জোর করে ১০০ টাকার তিনটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্ট্যাম্প উদ্ধারের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধলিয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি আমিনুল হক। তিনি বলেন, টুকু ও কুদ্দুসের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। আমরা বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু অপহরণ, টাকা ছিনতাই এবং সাদা কাগজে সই নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল দাস জানান, ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


