ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিয়ে, নতুন সংসারে এসেছিল ফুটফুটে কন্যাসন্তান। কিন্তু সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান মা সুমাইয়া আক্তার (১৮)। আর মায়ের মৃত্যুর মাত্র ১২ দিন পর না ফেরার দেশে চলে যায় তাদের ১২ দিন বয়সী একমাত্র সন্তান রুমাইসাও। ভালোবেসে গড়া সংসারের দুই প্রিয় মানুষকে কয়েক দিনের ব্যবধানে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নিজাম উদ্দিন মিলন নামে এক যুবক।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর জেড ইউ মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নবজাতক রুমাইসা। পরে রাত ৮টার দিকে উত্তর কোলাপাড়া মাজার বাড়ি কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
নিহত সুমাইয়া আক্তারের স্বামী নিজাম উদ্দিন মিলন পরশুরাম পৌরসভার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে। সুমাইয়ার বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের তারাকুচা গ্রামে।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিলন ও সুমাইয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০২৫ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নতুন সংসারে আসে তাদের প্রথম সন্তান। তবে সন্তান জন্মের সময় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য সুমাইয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে গত ২৪ অক্টোবর তিনি মারা যান।
এরপর নবজাতক মেয়েকে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু কিছুদিন পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে ফেনীর জেড ইউ মডেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১২ দিন বয়সী রুমাইসা।
স্ত্রীর মৃত্যুর কয়েক দিনের মাথায় একমাত্র সন্তানকেও হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মিলন। প্রতিবেশী ইসমাইল হোসেন শুভ জানান, স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে মিলন একেবারে শোকে কাতর হয়ে পড়েছেন। মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জন্মের পর মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল ছোট্ট রুমাইসা। শেষ পর্যন্ত মায়ের কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলো ১২ দিনের এই নবজাতক।


