...|...|...

সারাদেশ

হামলা মামলার আসামি ছেলেকে পুলিশে দিলেন বিএনপি নেতা বাবা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২০
Shares
হামলা মামলার আসামি ছেলেকে পুলিশে দিলেন বিএনপি নেতা বাবা

ছেলে বাঁধন ও তার বাবা জামাল মুন্সি। ছবি: টাইমস টুডে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ফেসবুকে মাদক নিয়ে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে এক নারীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে তার বাবা নিজেই থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। অভিযুক্ত যুবকের বাবা স্থানীয় বিএনপি নেতা জামাল মুন্সি। তার এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফরিদা বেগম (৪৩) মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তিনি ওই গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার স্ত্রী।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন-কুমড়াকান্দি গ্রামের বিপ্লব শেখের ছেলে রাকিব (২৩), কলেজপাড়ার জামাল মুন্সির ছেলে বাঁধন (২০), কুমড়াকান্দি গ্রামের সিদ্দিক শেখের ছেলে ইমন (২৫) এবং বাবলু শেখের ছেলে সাগর (২৫)।

মামলার ২ নম্বর আসামি বাঁধনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তার বাবা বিএনপি নেতা জামাল মুন্সি নিজেই থানায় নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর আগে এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি জানান, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছেন তিনি। একই সাথে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান জামাল মুন্সি।

নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তাকে আড়াল না করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার ঘটনায় জামাল মুন্সির ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার এই সিদ্ধান্তকে সাহসী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সন্তান অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হলে তাকে আইনের মুখোমুখি করার এমন মানসিকতা সমাজের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে।

জামাল মুন্সি বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ জানার পর তিনি নিজেই ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাদের মামলা করতে সহযোগিতা করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে তার ছেলে বাঁধনকে রাকিব ডেকে নিয়ে যায়।

রাকিবকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উল্লেখ করে জামাল মুন্সি অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও রাকিব প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ, প্রশাসন, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

মামলার বাদী ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা লোহার রড ও স্টিলের পাইপ নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে তার মেয়ে স্মৃতির (২৪) একটি হাত ভেঙে যায়। এ ছাড়া তার পুত্রবধূ সিনথিয়া (১৮), মেয়ের জামাতা নাজমুল (২৩) এবং তিনি নিজেও আহত হন।

ফরিদা বেগমের অভিযোগ, হামলাকারীরা ঘরের আলমারিতে রাখা নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন লুট করে নিয়ে যায়। পরে তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে মাদক নিয়ে আর কোনো কথা বললে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।

তিনি দাবি করেন, রাকিব ও বাঁধন কুমড়াকান্দি এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী। তাদের সাথে মিশে তার ছেলে স্বাধীন (২৩) মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় দুই মাস আগে তারা স্বাধীনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেন। পরে আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠান।

ফরিদা বেগমের দাবি, মাদকসংক্রান্ত এসব বিষয়ে কথা বলার কারণেই রাকিব, বাঁধনসহ তাদের সহযোগীরা তার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জের ধরেই তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি বাঁধনকে তার বাবা থানায় সোপর্দ করেছেন। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।