...|...|...

সারাদেশ

চট্টগ্রামে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৪

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ২:২২ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:৫৯
Shares
চট্টগ্রামে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হাজার ছাড়াল, মৃত্যু ১৪

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে চলতি বছরের নয় মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে এ রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৪৭০ জন, উপজেলায় ৫১৭ জন এবং অন্যান্য জেলার ১০৪ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়।

মারা যাওয়া রাফসান মাহমুদের (২৭) বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ভাটিয়ারি তলাতলি এলাকায়। গত সোমবার মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে নগরীর এপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে, মিরসরাইয়ে দ্রুত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৫ দিনেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর আগে, আগস্টে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের শরীরে রোগটি ধরা পড়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত আরও একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে গত ৪৫ দিনে উপজেলায় ডেঙ্গু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে।

হঠাৎ করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ডেঙ্গু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হলে হাসপাতালে রেখেই তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে পানি জমে থাকে-এমন স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রামসহ বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। জ্বরসহ ডেঙ্গুর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান বলেন, চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অক্টোবরের শেষের দিকে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

তিনি বলেন, আক্রান্ত হওয়ার পরও অনেকে ডেঙ্গু নিয়ে অসচেতন থাকেন। এ কারণে ডেঙ্গুর কোন পর্যায়ে কী ধরনের চিকিৎসা নিতে হবে, সে বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।

মৃত্যুঝুঁকি প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশি দেখা যাচ্ছে। যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম বা আগে থেকেই অন্য কোনো রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন চমেক হাসপাতালে ১০৮ জন, বিআইটিআইডিতে ২১ জন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২৮ জন, চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ৭ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ২৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রায় ২৩ জন।