ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে সৌদি আরবের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) হুথিদের সংবাদ সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সাবার প্রতিবেদনে বলা হয়, সানা প্রদেশের আল-শারিয়া এলাকায় সৌদি যুদ্ধবিমানের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। হুথিদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনও একই হতাহতের তথ্য জানিয়েছে।
হুথি কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় উদ্ধারকর্মীদের ওপরও দুই দফা বিমান হামলা হয়েছে।
আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে হামলাস্থল থেকে ধোঁয়া উঠতে, ধ্বংসস্তূপের স্তূপ এবং হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, দেশটির রাজধানী রিয়াদ প্রদেশ লক্ষ্য করে হুথিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ইয়েমেনের তায়েজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হন। ওই হামলার জন্য হুথিরা সৌদি বিমানবাহিনীকে দায়ী করলেও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী দাবি করেছে, হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
গত জুলাইয়ে কয়েক বছরের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এরপর থেকে সৌদি আরব হুথিদের অবস্থানে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। অন্যদিকে হুথিরাও সৌদি আরব লক্ষ্য করে হামলা বাড়িয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ইয়েমেনে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ৩ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


