...|...|...

বিশ্ব

গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৫২
Shares
গ্রিনল্যান্ডে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সাথে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডে স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার একটি ঘাঁটি পুনরায় চালু এবং পূর্ব উপকূলে আরেকটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন উপস্থিতি স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনজন ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন জানান, প্রস্তাবিত দুটি স্থান হলো দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব উপকূলের মেস্টারসভিগ। নারসারসুয়াকে ১৯৫০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার পর সেখানকার জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে এসেছে। আর মেস্টারসভিগ বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর ‘সিরিয়াস ডগ স্লেড পেট্রোল’-এর একটি সামরিক চৌকি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্বাক্ষরের আগে এর বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে না।

চুক্তি নিয়ে মন্তব্যের জন্য রয়টার্স ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসও চুক্তির বিস্তারিত বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে এক মুখপাত্র আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুরক্ষিত করবে।

ডেনমার্কের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ওপর নির্ভর করবে না; বরং সামরিক জোট ন্যাটোর নজরদারির আওতায় আসবে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের চাপের পর এই চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন। একাধিকবার তিনি অঞ্চলটি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। তাঁর এসব বক্তব্যের পর ন্যাটোর ভেতরে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেখানে ১০ হাজারের বেশি সেনা ও কর্মী মোতায়েন ছিল। বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র সক্রিয় সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস বেস। সেখানে প্রায় ১৫০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন।