...|...|...

খেলা

ক্রীড়া ভাতার আওতায় ব্রোঞ্জ জয়ী জিন্নাত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:১৮
Shares
ক্রীড়া ভাতার আওতায় ব্রোঞ্জ জয়ী জিন্নাত

পদকজয়ী উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র পদকজয়ী উশু খেলোয়াড় জিন্নাত আক্তারকে ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে ভাতা পাবেন তিনি। প্রতি চার মাস পর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে এই ভাতার মেয়াদ বাড়ানো হবে।

জাপান থেকে দেশে ফেরার পর রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারে জিন্নাতকে সংবর্ধনা দেয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে তার গলায় ব্রোঞ্জ পদকটি নতুন করে পরিয়ে দেওয়া হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তাকে স্মারক উপহারের পাশাপাশি এক লাখ টাকা প্রদান করেন।

জিন্নাতের পদক শুধু উশু অঙ্গনকেই নয়, পুরো ক্রীড়াঙ্গনকে নাড়া দিয়েছে। দেশে হাজার হাজার ক্রীড়াবিদ আছেন, যারা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পান না, পুষ্টিকর খাবারের অভাবে ভোগেন, আধুনিক সুবিধা তো প্রায় নেই বললেই চলে। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা দেশের জন্য লড়ছেন।

জিন্নাতের পথও সহজ ছিল না। একটি লড়াইয়ে তিনি হেরে যান, আর অন্য এক ম্যাচে প্রতিপক্ষ অযোগ্য ঘোষিত (ডিসকোয়ালিফাইড) হয়। তবু পদক এসেছে তার হাত ধরেই। অথচ সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, শুটিং, হকি ও ক্রিকেটের মতো আলোচিত খেলাগুলো খালি হাতে ফিরেছে।

বছরজুড়ে যাদের নিয়ে আশার কথা শোনানো হয়েছিল, তাদের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরচারি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে। সারা বছর বিদেশি কোচের অধীনে অনুশীলন হয়, মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ও সহায়তায় এগিয়ে থাকে। আরচারি ফেডারেশনের প্রধান কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল দেশ ছাড়িয়ে সাফ হয়ে এখন এশিয়ার নেতৃত্বেও পৌঁছেছেন। কিন্তু মাঠের ফল শূন্য।

ক্রিকেট দেশের সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী খেলা হলেও এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটারদের মধ্যে গুরুত্ব দেওয়ার মনোভাব দেখা যায়নি। এই আসর তাদের কাছে যেন এক ঝামেলা, যা শেষ করতে পারলেই স্বস্তি। কাবাডিতে আশা ছিল, কিন্তু জাপানের মতো দলকে হেলাফেলা করতে গিয়ে নিজেরাই হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ।

টেবিল টেনিস, অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারের মতো যেসব ইভেন্টে বাংলাদেশ এশিয়ার মঞ্চেই পাত্তা পায় না, সেখানে এশিয়ান গেমসে ভালো করার ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এশিয়ান গেমসে লড়ে সেই খেলোয়াড়েরাই, যারা এশিয়ার অন্যান্য টুর্নামেন্ট ও চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করেছেন। যারা সাফ অঞ্চলেই ব্যর্থ, তাদের কাছ থেকে এশিয়ান গেমসে সাফল্য আশা করা কঠিন।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদকের ইতিহাস

১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।

  • ১৯৮৬: বক্সিংয়ে মোশারফ হোসেনের ব্রোঞ্জ
  • ১৯৯০: পুরুষ কাবাডিতে প্রথম রৌপ্য
  • ১৯৯৪: রৌপ্য
  • ১৯৯৮: ব্রোঞ্জ
  • ২০০২: রৌপ্য
  • ২০০৬: রৌপ্য
  • ২০১০: ক্রিকেটে স্বর্ণ, নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ
  • ২০১৪: ক্রিকেটে রৌপ্য, নারী কাবাডিতে ব্রোঞ্জ
  • ২০২২: পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ