অবশেষে দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন লাভ করেছে। নতুন এই বেতন কাঠামোয় প্রথম থেকে একাদশ গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন শতভাগ এবং দ্বাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে বর্ধিত এই বেতন এককালীন না দিয়ে আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে নতুন এই স্কেল কার্যকর ধরা হলেও এর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে যুক্ত হবে। নতুন এই পে-স্কেলের ফলে দেশের প্রায় ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। এই বিশাল পরিবর্তন বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
নতুন স্কেলে বিংশ গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রেখে গ্রেড অনুযায়ী বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রাখা হয়েছে।
দশম থেকে বিংশ গ্রেড বা নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপে এ বছরের জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৫ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ও শেষ ধাপে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ যোগ হয়ে বর্ধিত মূল বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে।
অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেড বা উচ্চ গ্রেডের চাকরিজীবীদের জন্য প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৪০ শতাংশ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপে ৩০ শতাংশ এবং একই বছরের জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ যুক্ত হয়ে মূল বেতন শতভাগে উন্নীত হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা একযোগে কার্যকর করা হবে।
বেতন বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট করতে একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশকারী কোনো কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে শতভাগ বৃদ্ধিতে তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। এই বর্ধিত ২২ হাজার টাকা তিন ধাপে তার মূল বেতনের সাথে যুক্ত হবে। যার প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই ৪০ শতাংশ বা ৮ হাজার ৮০০ টাকা যোগ হয়েছে।
এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং জুলাই মাসে তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হয়ে তার মূল বেতন পূর্ণ ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি এই নতুন মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য সব ভাতা পাবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই হিসাবটি কেবল প্রারম্ভিক মূল বেতনের ওপর ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবে একজন চাকরিজীবীর মূল বেতন এর চেয়ে কিছুটা বেশি হবে, কারণ এর সাথে প্রতিবছর নিয়মিত ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধি যুক্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে এই নবম পে-স্কেল বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



