...|...|...

অর্থনীতি

হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের ১৫ বছরে ঋণ শোধের সুযোগ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৩০ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:০০
Shares
হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের ১৫ বছরে ঋণ শোধের সুযোগ

হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপিদের ১৫ বছরে ঋণ শোধের সুযোগ। ফাইল ছবি

বড় অঙ্কের ঋণে জর্জরিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য নতুন নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একক প্রতিষ্ঠান বা কোনো গ্রুপের ঋণের পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি হলে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর পর্যন্ত ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর অতিরিক্ত সময় পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। নতুন এই সুবিধা নিতে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর এসব আবেদন ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার লেটার জারি করেছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এ নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক সংকটে থাকা ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা এবং আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আগে দেওয়া নীতি সহায়তার কার্যকর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭/২০২৫-এর আওতায় নীতি সহায়তা পেতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এর পাশাপাশি আগে নীতি সহায়তার আওতায় সুবিধা নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন করে বাড়তি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারবে।

তবে সবচেয়ে বড় সুবিধা রাখা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। এ ধরনের ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছর মেয়াদে ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে।

অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠান ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরুর আগে দুই বছর পর্যন্ত সময় পেতে পারে এবং পুরো ঋণ পরিশোধের জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর সময় পাবে।

এ ছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও বাড়তি ছাড় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মেয়াদের বাইরে আরও সর্বোচ্চ চার বছর অতিরিক্ত সময় দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে ১ হাজার কোটি টাকার কম ঋণের ক্ষেত্রে এ বিশেষ সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। এসব ঋণের ক্ষেত্রে আগের নীতিমালার নির্ধারিত সময়সীমাই কার্যকর থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে ঋণের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণ বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আসতে পারবে। অন্যদিকে শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণ বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ পাবে।

সব আবেদন যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্ট গ্রহণের পর অনুমোদন দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দীর্ঘমেয়াদি পুনঃতফসিলের সুযোগ পেলে আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থের চাপ কমবে এবং ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের একাংশ মনে করছেন, বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য দীর্ঘ সময়, গ্রেস পিরিয়ড ও অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার ফলে ঋণ আদায়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার সময়ে এই নীতি বড় ঋণখেলাপিদের জন্য নতুন ছাড়ের সুযোগ তৈরি করবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।