...|...|...

সারাদেশ

কাজ শেষে ২২ লাখ টাকা কোষাগারে ফিরিয়ে দিলেন ইউএনও

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯:০৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:০৯
Shares
কাজ শেষে ২২ লাখ টাকা কোষাগারে ফিরিয়ে দিলেন ইউএনও

ইউএনও জাহিদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প মানেই যেন বাজেট শেষ, অতিরিক্ত বরাদ্দের আবদার কিংবা ব্যয়ের নামে নয়ছয়ের চিরচেনা চিত্র। কিন্তু প্রচলিত এই ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরগুনার তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। খাল পুনঃখননের মতো বড় একটি প্রকল্পের কাজ শতভাগ সফলভাবে শেষ করেও অব্যয়িত ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বড়বগী ও বড় ভাইজোড়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পের জন্য মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা অব্যয়িত থাকায় তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন কাজে ২৯৭ জন শ্রমিক অংশ নেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রত্যেক শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি বড়বগী ইউনিয়নের ছাতন পাড়ার মোশাররফ হোসেন খানের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে খাজুরা কালভার্ট হয়ে ছোটবগী ইউনিয়নের বলের তবক এলাকার ওয়াজেদ কমিশনারের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ২৯৭ জন শ্রমিকের মজুরি সঠিকভাবে পরিশোধ করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পুরো ৫ কিলোমিটার খালের পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সাধারণত সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত পুরো টাকা শেষ করার একটি অলিখিত প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সততা ও কঠোর মনিটরিংয়ের কারণে কাজ শেষেও বেঁচে যায় বিশাল অঙ্কের অর্থ। পরবর্তীতে কোনো রকম নয়ছয় না করে ২৬২৭-০৮৫৬৯৮৬৩১ নম্বর চালানের মাধ্যমে সম্পূর্ণ ২২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

ইউএনও মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের করের টাকার যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সম্প্রতি গৃহীত প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা দেশের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রাখবে। সরকারি অর্থের সাশ্রয় ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।