চলতি মাসে জাপানের আইচি নাগোয়ায় বসছে এশিয়ান গেমস। বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের আবাসন নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। গেমস ভিলেজে অন্য ক্রীড়াবিদরা যে সুবিধা পাবেন, ক্রিকেটারদেরও সেটিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আবাসনের চেয়ে জাপানের কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নিয়ে ভালো পারফরম্যান্স করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালাউদ্দিন জানান, এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের লক্ষ্য স্বর্ণপদক।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। অনুশীলনে ছিলেন অধিনায়ক লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিদ হাসান তামিম, মোসাদ্দেক হোসেন ও নাসুম আহমেদ। তাদের সাথে কাজ করেন ফিল সিমন্স ও সালাউদ্দিন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে বাকি ক্রিকেটাররা ক্যাম্পে যোগ দেবেন। দেশ ছাড়ার আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে।
টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো দলই চমক দেখাতে পারে বলে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নিতে চান না সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, 'এটি একটি নকআউট টুর্নামেন্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। অন্য দলগুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। আমার বিশ্বাস, আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলো মূলত এই ফরম্যাটেই বেশি খেলে। তাই এই ফরম্যাটে তাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকতে পারে। আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্যে মানিয়ে নিতে হয়। এ কারণেই টি-টোয়েন্টিতে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বের সাথে খেলতে হবে এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে।'
গেমস ভিলেজে ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থা বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বড় জাহাজ হওয়া নিয়ে আলোচনা থাকলেও এতে আপত্তি নেই সালাউদ্দিনের। তিনি বলেন, 'আবাসন নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। গেমস ভিলেজে অন্য ক্রীড়াবিদরা যা পাবেন, আমরাও তাই পাব। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আলাদা থাকার প্রয়োজন আছে এমনটা আমরা ভাবছি না। আমরা নিজেদের ক্রীড়াবিদ হিসেবেই দেখি। অন্য ক্রীড়াবিদরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন, আমরাও সেগুলোই পাব। তারা তো আর আমাদের রাস্তায় ফেলে রাখবে না। থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবেই। তাই এ নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই।'
আবাসনের চেয়ে কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। জাপানের উইকেটকে অজুহাত হিসেবেও দেখতে চান না। তার ভাষায়, 'ক্রিকেট খেলার সময় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলতে হয়। তাই প্রতিবারই ভালো উইকেট পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। উইকেট যদি এমন হয় যেখানে ১২০ রান করা সম্ভব, তবে আমাদের সে অনুযায়ী খেলতে হবে। আর যদি ২০০ রানের উইকেট হয়, তবে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।'
২০১০ সালে চীনের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে দেশের একমাত্র স্বর্ণপদকও এসেছে সেই আসর থেকে। এবার আইচি-নাগোয়ায় সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি চান সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, 'নারী ক্রিকেট দল ২০১০ সালে রৌপ্য জিতেছিল। কাবাডিতেও হয়তো আমরা এক-দুটি রৌপ্য পেয়েছি। এছাড়া বড় কোনো সাফল্য আমাদের নেই। বাংলাদেশ থেকে একটি বড় দল সেখানে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু খুব কম ইভেন্টেই আমাদের পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্রিকেটের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই, বাংলাদেশ যেন স্বর্ণপদক জেতে।'



