...|...|...

অর্থনীতি

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেশি নিলে করণীয়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৪
Shares
এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেশি নিলে করণীয়

ছবি: এআই জেনারেটেড

দেশের বাজারে ১২ কেজির এলপিজি (লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রতি মাসে নির্ধারণ করে দিলেও, মাঠপর্যায়ে খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে প্রায়ই নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আপনি যদি ওজনে কম পান কিংবা আপনার কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে এক টাকাও বেশি নেওয়া হয়, তবে আইনিভাবে আপনার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

অসাধু বিক্রেতাদের হাত থেকে বাঁচতে এবং ভোক্তা হিসেবে নিজের অধিকার বজায় রাখতে অবিলম্বে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:

১. ক্রয়ের ভাউচার বা ক্যাশমেমো সংগ্রহ করুন

এলপিজি সিলিন্ডার কেনার পর বিক্রেতার কাছ থেকে অবশ্যই একটি ক্যাশমেমো বা লিখিত রসিদ চেয়ে নেবেন। রসিদে টাকার পরিমাণ, সিলিন্ডারের ব্র্যান্ডের নাম এবং তারিখ স্পষ্টাক্ষরে উল্লেখ থাকতে হবে। এটি পরবর্তীতে অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। বিক্রেতা রসিদ দিতে অস্বীকার করলে সেটিও একটি অপরাধ।

২. সরাসরি হটলাইনে কল করুন (১৬১২১)

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নিলে সাথে সাথে ঘটনাস্থল থেকেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় হটলাইন নম্বর ১৬১২১-এ কল করে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ ছাড়া অধিদফতরের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর ০১৭৭৭-৭৫৩৬৬৮-তেও যোগাযোগ করা যাবে।

৩. লিখিত ও অনলাইন অভিযোগ দায়ের করুন

ভোক্তা-অধিকার আইনের অধীনে প্রতিকার পেতে আপনি লিখিত বা অনলাইনেও অভিযোগ করতে পারেন। ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে প্রমাণসহ (ক্যাশমেমো, অডিও/ভিডিও বা ছবি) অভিযোগ জমা দিতে হবে।

• অনলাইন পোর্টাল: ভোক্তা অধিকারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অথবা সিসিএমএস (dncrp.com) পোর্টালে গিয়ে ঘরে বসেই ফরম পূরণ করে অভিযোগ জমা দেওয়া যায়।

• ইমেইল: [email protected] ঠিকানায় আপনার অভিযোগ ও ক্যাশমেমোর ছবি ইমেইল করতে পারেন।

৪. স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করুন

আপনার এলাকায় যদি সিন্ডিকেট করে এলপিজির দাম বেশি রাখা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা নিকটস্থ থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয়েও সরাসরি গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া যাবে।

ভোক্তা হিসেবে আপনার লাভ কী?

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে পণ্য বা সেবা বিক্রয় করলে অপরাধীর জরিমানার বিধান রয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আপনার অভিযোগের ভিত্তিতে যদি সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়, তবে জরিমানার ২৫ শতাংশ টাকা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আপনি (অভিযোগকারী) পাবেন।