...|...|...

রাজনীতি

এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, প্রত্যাহারের দাবি শিবিরের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৪৬
Shares
এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী, প্রত্যাহারের দাবি শিবিরের

এলপিজির দাম বাড়ানোয় ছাত্রশিবিরের প্রতিবাদ। ছবি: টাইমস টুডে

ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসাথে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জনস্বার্থবিরোধী। দেশের সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষ যখন চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা, তখন রান্নার অপরিহার্য উপাদান এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনো জনবান্ধব সরকারের কাজ হতে পারে না।

ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আট মাসে পাঁচ দফায় এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে দুই দফায় যথাক্রমে ৩৮ ও ২২২ টাকা, আগস্টে ৭০ টাকা, অক্টোবরে ২৫২ টাকা এবং সর্বশেষ আজ ২২৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এভাবে বারবার জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। রান্নার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম এভাবে বাড়ানো জনস্বার্থের পরিপন্থী।

নেতারা আরও বলেন, মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার বাস্তবতা বিবেচনা না করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় বাড়িয়ে জনগণের ওপর একের পর এক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের আয় না বাড়লেও সংসার পরিচালনার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, শিক্ষার্থী, ভাড়াটিয়া এবং সীমিত আয়ের মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তারা বলেন, এর পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে খুচরা বাজারে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে ভোক্তাদের নির্ধারিত মূল্যের বাইরেও বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব সামগ্রিক বাজারব্যবস্থায় পড়বে। সরকারের দায়িত্ব জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো নয়, বরং মানুষের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাইপলাইনের গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দেশের কোটি কোটি পরিবার রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতাকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক বাজারের অজুহাতে বারবার দাম বাড়ানো হচ্ছে। এলপিজি আমদানি ও বাজারজাতকরণের সাথে যুক্ত অসাধু আমদানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় ভোক্তাদের স্বার্থ উপেক্ষা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নেতারা।

ছাত্রশিবিরের নেতারা মনে করেন, মূল্য নির্ধারণের নামে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। জনস্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার এই প্রবণতা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে এলপিজির বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

একইসাথে জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ছাত্রশিবিরের নেতারা।