...|...|...

জাতীয়

এলপিজি-নিত্যপণ্যের দামে অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৩৩ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:১৯
Shares
এলপিজি-নিত্যপণ্যের দামে অনিয়ম ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান, ১০২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

ফল, ভোজ্যতেল ও ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩০ জেলায় অধিদপ্তরের ৪৪টি দল একযোগে এ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে পণ্যের মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো এবং এলপিজি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ করতেই এই বিশেষ তদারকি চালানো হয়েছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারে দুটি এলপি গ্যাস ডিলার পয়েন্টে অনিয়ম পাওয়া যায়। ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাজী আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অধিদফতরের তথ্যমতে, প্রতিষ্ঠান দুটিতে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা, প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি এবং বিশেষ পাইপ ব্যবহার করে গ্যাস স্থানান্তরের মাধ্যমে ওজনে কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানের সময় এ কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল ও স্টিকার জব্দ করা হয়।

তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ এবং সরবরাহব্যবস্থায় বাধা তৈরি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো এবং পণ্যের সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

ফল ব্যবসায়ীদেরও ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি না করা এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অনুমোদনহীন কোনো পদার্থ ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

অন্যদিকে ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, ওজন ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে কেনাকাটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এলপিজি সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রেও ওজন, সিল এবং দৃশ্যমান কোনো ত্রুটি আছে কি না তা পরীক্ষা করার পাশাপাশি ক্রয়ের রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা। বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য ও স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।