যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের পর অক্টোবরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। তবে ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মূল্যবৃদ্ধির গতি কিছুটা সীমিত ছিল।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, জিএমটি সময় সকাল ৬টা ৩১ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৩ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮১ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
শুক্রবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার তুলনায় ধীর ছিল। একই সঙ্গে আগের দুই মাসের নন-ফার্ম পেরোলের হিসাবও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, দুর্বল শ্রমবাজারের তথ্য অক্টোবরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা কমিয়েছে, যা স্বর্ণের দামকে সহায়তা করছে। তবে অক্টোবরে হার অপরিবর্তিত থাকলেও সামগ্রিকভাবে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি বলে বাজারে ধারণা রয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে অক্টোবরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ১৮ শতাংশ এবং ডিসেম্বরে ৮১ শতাংশ হিসেবে দেখছেন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বেঞ্চমার্ক ওভারনাইট সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে যায়। এটি ছিল তিন বছরের মধ্যে ফেডের প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।
এদিকে ইউএস ডলার সূচক ০.৪ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম আরও বেশি বাড়তে পারেনি। ডলারের মূল্য বাড়লে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলার-ভিত্তিক স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলছে। ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ইরান-সমর্থিত হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারে বড় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
টিম ওয়াটারার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। বিশেষ করে তেলের দাম, মূল্যস্ফীতি, বন্ডের ইল্ড এবং ফেডের সুদের হারসংক্রান্ত প্রত্যাশা বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জি-৭ দেশগুলোর মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার কারণে সরবরাহ বেড়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে এবং তেলের দামও নেমেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১.৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬১.৪০ ডলারে, প্ল্যাটিনামের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭১৬ দশমিক ৯২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।


