...|...|...

শিক্ষা

উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই চুয়েটের ভিসি ভবনে তালা

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৫০ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০১
Shares
উপাচার্যকে ভেতরে রেখেই চুয়েটের ভিসি ভবনে তালা

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ভবনের ফটকে আবারও তালা লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন তাঁরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের ভেতরের ফটকে তালা দেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন তাঁরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগের ২০ দিন পর সোমবার সকাল ৯টার দিকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ফটকে নিজেকে শিক্ষক পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন এবং উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসেন।

এ সময় তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, ১১ ও ১২ অক্টোবর দুই দিনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ সময় অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি সভায় অংশ নিতে ঢাকায় থাকার কথা ছিল।

নতুন উপাচার্যের ভবনে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। তাঁরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে ভবন ছাড়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়লে সেটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে তালা দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দেন।

আলটিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তালা, তালা, তালা হবে, ভিসি ভবন তালা হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা শবনম নতুন উপাচার্যের নিয়োগ ও ভবনে প্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘মুকুট পরলেই রাজা হওয়া যায় না, স্যার। পদে আসীন হওয়া আর সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়।’

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের মাধ্যমে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম কী বার্তা দিতে চেয়েছেন, তা তাদের বোধগম্য নয়।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন।

আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে টানা ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। নতুন উপাচার্যের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে চলমান বিরোধের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম কবে চালু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।